প্রতিনিধি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১২:২৬:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ
তখন ভোরের আলো ফুটেছে খুব আকাশে। কিন্তু তাসনিম রিফাতেরবাড়িটা শোকে ঢাকা। সকাল থেকেই গ্রামের লোকজন করছেন বাড়ির আঙিনায়। নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবার চোখেমুখেই শোকের চিহ্ন । অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বাবা আসাদুল ইসলাম শোকে যেন ভাষা হারিয়ে বসে আছেন চেয়ারে। ঘরের ভেতর থেকে আসছে কান্নার রোল। অপেক্ষা কেবল লাশের।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে গিয়ে এই দৃশ্য চোখে পড়ে।
এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের সদস্য সৈনিক (গানার) তাসনিম রিফাত (২৮)। তার মৃত্যুর খবর রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই সেখানে চলছে স্বজনদের আহাজারি। সবচেয়ে কঠিন অপেক্ষা বাবা আসাদুল হক।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১২টার দিকে হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় দুর্ঘটনাবশত ট্যাংকের ভেতরে গোলা বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রিফাত। তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনে কর্মরত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রিফাতের মা। সেই শোক সামলে ওঠার আগেই এবার ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি আবারও গভীর শোকে ডুবে গেছে।
উল্লেখ্য, চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। তার বড় ভাই এবি মাহমুদ দীপ্ত এবং ছোট ভাই শামসাদ আহমেদ বিশাল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার ছিল নিবিড় সম্পর্ক। আকস্মিক এই মৃত্যুর খবর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা।
রিফাত স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে থাকতেন বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যদরা ছোট্ট মেয়েটিকে ঘিরেই ছিল রিফাতের অনেক স্বপ্ন। মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানো, তাকে বড় হতে দেখা—সব স্বপ্নই ছিল তার। অথচ সেই মেয়েকেই বাবাহারা করে চলে গেলেন তিনি।
ছোট ভাইয়ের নাম উচ্চারণ করতে করতে কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় ভাই মাহমুদ দীপ্ত। তিনি বলেন, পিঠাপিঠি দুই ভাই একসঙ্গে বড় হয়েছি। একই ক্লাসে পড়েছি। আজ হঠাৎ করে ভাইকে হারিয়ে ফেললাম।
নিহত তাসনিম রিফাতের বাবা আসাদুল হক বলেন, গত কোরবানি ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল সে। এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে ভিডিও কলে কথা বলেছিল রিফাত।
তিনি বলেন, আমার জীবনটা বড় কষ্টের। বাবার কাঁধে ছেলের লাশ কতটা ভারী তা বোঝাতে পারব না! মায়ের কবরের পাশে সিফাতকে দাফন করা হবে।
ঢাকা থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে রিফাতের মরদেহ রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে নামার কথা। সেখান থেকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে তার লাশ। এরপর নামাজে জানাজার শেষে দাফন করা হবে রিফাতের মরদেহ।





















