নওগাঁ প্রতিনিধি ১৯ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৪৯:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মান্দায় পরকীয়া ও পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্যালকের ধারালো হাসুয়ার কোপে গুরুতর আহত দুলাভাই মামুনুর রশিদ মামুন (৩৮) মারা গেছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্ত শ্যালক ইসমাইল হোসেনকে আত্রাই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর সময় স্থানীয়দের সহায়তায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে পার্শ্ববর্তী মহাদেবপুর উপজেলার শিবগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মামুন উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের শামুকখোল গ্রামের মকছেদ আলী ওরফে কটার ছেলে। তিনি পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল মাদকাসক্ত। প্রায় ১০ বছর আগে মাদক মামলায় কারাগারে যান তিনি। সে সময় তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দুলাভাই মামুনের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ইসমাইল কারাগার থেকে বের হয়ে বিষয়টি জানতে পারলে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে সম্প্রতি ইসমাইল তাঁর দুলাভাই মামুনের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছিলেন। একই সঙ্গে একটি নির্মাণাধীন বাড়ি তাঁর নামে লিখে দেওয়ার জন্যও চাপ দিচ্ছিলেন।
এরই জেরে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে শামুকখোল গ্রামের একটি মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে যান মামুন। নামাজ শেষে আগে থেকেই হাসুয়া হাতে সেখানে অবস্থান নেওয়া ইসমাইল তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় ধারালো হাসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপালে গুরুতর আহত হন মামুন।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই দিন বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী ও ইসমাইলের বোন নেহেরা খাতুন বাদী হয়ে মান্দা থানায় মামলা করেন।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ‘আহত ব্যক্তির মৃত্যুর পর পূর্বের মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইসমাইল পলাতক ছিলেন। পরে মহাদেবপুর থানা পুলিশের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়েছে।’
অভিযুক্তকে আটকের বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে শিবগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় ইসমাইল আত্রাই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাঁকে ধাওয়া দিলে মহাদেবপুর থানা পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।





















