সারাদেশ

মান্দায় এডিপির অর্থ হরিলুট, নামমাত্র প্রশিক্ষণে লাখ টাকা গায়েব

  নওগাঁ প্রতিনিধি ১৮ আগস্ট ২০২৬ , ১২:১৬:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁর মান্দায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এক দিনের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করে প্রকল্পের ২ লাখ টাকা বরাদ্দের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী ও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উপজেলা এডিপির চতুর্থ পর্যায়ের প্রকল্পের আওতায় ‘ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদকরণ’ বিষয়ে এক দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয় ২ লাখ টাকা। এতে ট্রেইনারসহ প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

অভিযোগ রয়েছে, অর্থবছরের শেষ সময়ে জুন মাসে বরাদ্দ পাওয়ায় অর্থ তামাদি হওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে কাগজে-কলমে কার্যক্রম সম্পন্ন দেখানো হয়। গত ১ জুন ২০২৬ তারিখের ৯৭৩ নম্বর স্মারকের নির্দেশনা অনুযায়ী পিআইসি ও আরএফকিউ পদ্ধতি অনুসরণের কথা বলা হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ তাঁদের ভাতার পরিমাণ সম্পর্কে অবগত নন। কয়েকজন অংশগ্রহণকারী জানান, দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের জন্য তাঁরা দুপুরের খাবার ও মাত্র ৫০০ টাকা করে ভাতা পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, খাবার ও নামমাত্র ভাতা বাবদ সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বাকি অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, ‘প্রশিক্ষণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও আমরা সঠিক কোনো ভাতা পাইনি। শুধু দুপুরের খাবার খাইয়েই দায়িত্ব শেষ করা হয়েছে।’

প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে প্রকল্পের সভাপতি ও কুসুম্বা ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুতের বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। অফিস থেকে একদিন ফোন করে শুধু আমার ভালো নামটি জানতে চেয়েছিল। এরপর আর কোনো কিছু আমাকে জানানো হয়নি।’

প্রশিক্ষণের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) আব্দুস ছালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সংক্ষেপে বলেন, ‘৩০ থেকে ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।’

তবে অনিয়ম ও ভাতা না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী। তিনি বলেন, ‘সবাইকে সম্মানী ভাতা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ৪১টি দপ্তরের মধ্যে ৩০টি দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যারা ভাতা পাননি বলছেন, তারা মিথ্যা বলছেন।’

তবে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানী ভাতার নির্দিষ্ট পরিমাণ কত ছিল—এ বিষয়ে ইউএনও কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম হয়ে থাকলে কাগজপত্র ও ভাউচার যাচাইয়ের মাধ্যমে তা সহজেই বের করা সম্ভব। তাঁরা এডিপির অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content