আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে ভারতীয় ধনকুবেরের কারখানায় রাশিয়ার হামলা

  প্রতিনিধি ১৭ আগস্ট ২০২৬ , ১:৪৭:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের ক্রিভি রিহ শহরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের লক্ষ্মী মিত্তলের মালিকানাধীন আর্সেলর মিত্তল খনন ও ধাতব শিল্প কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহরে অবস্থিত সবচেয়ে বড় সমন্বিত ইস্পাত কারখানাটিতে এ হামলায় দুইজন নিহত ও ১৪ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। হামলার পর কারখানাটির উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

রোববারের এই হামলায় কারখানার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ব্যবস্থা ও ব্লাস্ট ফার্নেস কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আর্সেলর মিত্তল। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের একটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে এবং এর পর উৎপাদন কার্যক্রম আংশিক স্থগিত করা হয়েছে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানা যায়।

এদিকে রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ড্রোন পাঠায়। মস্কোর আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ৮২২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করা হয়েছে।

মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে ৮৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর ভোরোবিয়ভ। একই অঞ্চলের পোদলস্ক শহরে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায়। প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে রাশিয়ার অন্যতম ধনী নারী তাতিয়ানা কিমের হাতে।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানী অভিমুখে প্রায় ৬০০টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মস্কো অঞ্চলের আকাশেই ধ্বংস করা হয়।

রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলের তিনটি শহরেও বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়। আঞ্চলিক গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানিয়েছেন, ১৫০টির বেশি ড্রোনের ওই হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি বাড়ি ও একটি রেলস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একটি বনাঞ্চলে আগুন ধরে যায়।

ইউক্রেনের অন্যান্য এলাকাতেও হামলায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় দুইজন, সীমান্তবর্তী সুমি অঞ্চলে একজন এবং পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কে আরও একজন নিহত হয়েছেন।

রুশ হামলায় রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন স্থানেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ছয়জন আহত হন। শহরের পচাইনা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি বড় বইয়ের বাজারেও আগুন লাগে। কাছাকাছি থাকা একাধিক দোকান ও স্টল আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, রাশিয়া যেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানতে পারে, সেখানেই বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে। গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ১ হাজার ৫৫০টির বেশি ড্রোন, প্রায় ১ হাজার ৫৬০টি গাইডেড বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার আহ্বান জানান ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।

তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ক্রিভি রিহর একটি ধাতব শিল্প কারখানা এবং কিয়েভের কয়েকটি সামরিক-শিল্প স্থাপনা ছিল তাদের হামলার লক্ষ্য। এসব স্থাপনার মধ্যে ইউক্রেনের ‘ফ্লামিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি কারখানাও ছিল বলে মস্কো দাবি করেছে। ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার হামলায় এই দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রায় সাড়ে চার বছর পর সম্মুখযুদ্ধ অনেকটা স্থবির হয়ে পড়লেও দুই পক্ষই এখন পরস্পরের ভূখণ্ডের গভীরে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির থাকায় এসব হামলায় বেসামরিক প্রাণহানি ২০২২ সালের যুদ্ধের শুরুর মাসগুলোর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আরও খবর

Sponsered content