আন্তর্জাতিক

লাটভিয়ার নির্বাচনে ইউক্রেনপন্থী দলের বড় জয়

  প্রতিনিধি ৪ অক্টোবর ২০২৬ , ৩:০০:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

লাটভিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রিস কুলবার্গসের মধ্যপন্থী ও ইউক্রেনপন্থী ‘ইউনাইটেড লিস্ট’ দল প্রত্যাশার চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে, রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের আশঙ্কার মধ্যে ভোটারদের বড় অংশ নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

৮৮ শতাংশ ভোট গণনার পর ইউনাইটেড লিস্ট ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জনতুষ্টিবাদী ও ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ ধাঁচের দল ‘লাটভিয়া ফার্স্ট’। তারা পেয়েছে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। নির্বাচনের আগে লাটভিয়ার উল্লেখযোগ্য রুশভাষী জনগোষ্ঠীর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছিল দলটি। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য কুলবার্গসকে জোটসঙ্গী খুঁজতে হবে। সন্ধ্যায় প্রকাশিত বুথফেরত জরিপের ফলাফলে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চান। তবে ‘লাটভিয়া ফার্স্ট’-এর সঙ্গে সরকার গঠন করতে চান না বলেও জানান তিনি।

রাজধানী রিগায় নিজের দলের কার্যালয়ে কুলবার্গস বলেন, ‘ফলাফলটি অসাধারণ। আমি এমন ফলাফল আশা করিনি।’

বুথফেরত জরিপে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়াপন্থী ‘সার্বভৌম শক্তি’ দল। তারা পেয়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। এরপর রয়েছে রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী ‘ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স’, যারা ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে। দলটি পেয়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ ভোট।

লাটভিয়ার এবারের নির্বাচনে জাতীয় নিরাপত্তা বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। বাল্টিক দেশগুলো কয়েক মাস ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইউরোপজুড়ে রাশিয়া নাশকতা, সাইবার হামলা ও অন্যান্য ‘হাইব্রিড’ তৎপরতা চালিয়ে ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন দুর্বল করার এবং মানুষের মধ্যে ভয় ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

তবে পশ্চিমা কর্মকর্তারা মনে করেন, ন্যাটোর সদস্য লাটভিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর সক্ষমতা রাশিয়ার রয়েছে এমন আশঙ্কা অতিরঞ্জিত। রাশিয়া অবশ্য এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছে এবং এগুলোকে ‘রাশিয়াবিরোধী উন্মাদনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

৪৭ বছর বয়সী ব্যবসায়ী কুলবার্গস গত মে মাসে তিনি লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সামরিক ড্রোনের অনুপ্রবেশ-সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনার মোকাবিলায় আগের জোট সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধের জেরে সেই সরকার ভেঙে পড়ার পর তিনি ক্ষমতায় আসেন।

লাটভিয়ার আকাশসীমায় ইউক্রেনের ড্রোন ঢুকে পড়ার ঘটনাগুলো নিয়ে কর্মকর্তারা অবশ্য রাশিয়াকেই দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের কারণে ড্রোনগুলো নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল।

নির্বাচনী প্রচারে কুলবার্গস লাটভিয়ার ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন, যা ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ হার।

রাশিয়াপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীরা অবশ্য ইউক্রেনকে সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোয় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে দেশটির রুশভাষী জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে তারা প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় করেছে।

এদিকে লাটভিয়ায় রুশভাষী প্রায় ১৯ লাখ জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে। কেউ কেউ ক্রেমলিনের যুদ্ধ নিয়ে বিব্রত বা ক্ষুব্ধ। আবার অনেকে লাটভিয়ায় রুশভাষীদের সামাজিক ও জনজীবনে প্রভাব সীমিত করার নীতিকে বৈষম্যমূলক বলে মনে করেন।

বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত লাটভিয়ার পূর্বে রাশিয়া ও বেলারুশ। উত্তরে ও দক্ষিণে রয়েছে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এস্তোনিয়া ও লিথুয়ানিয়া। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে দেশটির নিরাপত্তা ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

আরও খবর

Sponsered content