প্রতিনিধি ১৫ জুন ২০২৬ , ১২:১০:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের ডানপন্থী গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলছে, ‘তিনি ইসরায়েলকে একা করে দিয়েছেন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য মিত্র নন।’
কূটনৈতিক মহলে এখনো ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্যের বরাতে বলা হচ্ছে, ইসরায়েল এই চুক্তির অংশ নয় এবং তারা লেবাননে দখলকৃত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।
এদিকে ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিডিওন লেভি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির ঘোষণা শুধুমাত্র ইসরায়েলের পরাজয় নয় বরং এটি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত পরাজয়।’
বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
লেভির মতে, ইরান ইস্যু ছিল নেতানিয়াহুর আজীবনের রাজনৈতিক প্রকল্প, কিন্তু নতুন এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলকে পুরোপুরি আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে দেশটি এখন কেবল বাধা সৃষ্টি বা গোপন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
লেভি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ বৈরুতের উপশহর এলাকায় সম্প্রতি ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলাগুলো ছিল হাস্যকর ও শিশুসুলভ পদক্ষেপ। তবে সেগুলো এখন ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে। তার ভাষায়, এই সংঘাতে ইসরায়েল কার্যত পরাজিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। নেতানিয়াহু এমন কোনো যুদ্ধবিরতি মানতে চান না, যা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করবে না।
তার মতে, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং বিশেষ করে লেবাননের পরিস্থিতি এই চুক্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইরান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো লেবাননকে এই সমঝোতার সঙ্গে যুক্ত করেছে, কিন্তু ইসরায়েল এখনো সেখানে সেনা উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
লেভি বলেন, ‘ইসরায়েল যতদিন লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করবে, ততদিন পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না। কারণ সেখানে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।’
অন্যদিকে ইসরায়েলের ভেতরে ক্ষমতাসীন জোট এবং বিরোধী দল উভয়ের মধ্যেই সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে সমর্থন রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর কূটনৈতিক চাপ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা উল্টো ফল দিয়েছে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা আরও তীব্র করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, ইসরায়েল সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি মেনে চলবে কি না, এবং লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে কি না।
পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ এখনো অনেক কিছুই পরিবর্তন হতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিতে পারে।




















