শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

১৫ জনের অবৈধ পদোন্নতি বহাল রাখল বেরোবি প্রশাসন

  প্রতিনিধি ১৩ আগস্ট ২০২৬ , ১২:৫২:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অমান্য করে নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সেই ১৫ কর্মচারীর অবৈধ পদোন্নতি বহাল রেখেছে।

ইউজিসির নথিতে আগের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনকে ‘নিয়মবহির্ভূত’ ও ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে তা বাতিল এবং অতিরিক্ত দেওয়া অর্থ ফেরত বা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা কার্যকর করেনি।

ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট সংক্রান্ত চিঠি ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর ইউজিসির একটি অ্যাসেসমেন্ট দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট পর্যালোচনা করে। এতে মোট ২৯টি পর্যবেক্ষণ চিহ্নিত করা হয়। এসব পর্যবেক্ষণ নিষ্পত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানায় কমিশন।

এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে ইউজিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়ম সংশোধন না হলে ভবিষ্যতে বাজেট চাহিদা ও বরাদ্দের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে কমিশন।

ইউজিসির নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি কমিশনের পাঠানো স্মারক (নং-৩৭.০১.০০০০.১৫২.১১.০২৩.২০.৩৮)-এর নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজস্ব সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেয়। নথি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৬তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে প্রথমে ২৫ জন কর্মচারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দেওয়া হয়। পরে আবারও নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদের মধ্য থেকে ১৫ জনকে ১১১তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রথম শ্রেণিতে আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে।

ইউজিসি জানিয়েছে, ‘৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদোন্নতি/আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩’ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত নয়। ফলে ওই নীতিমালার ভিত্তিতে দেওয়া ২৫ জনের পদমর্যাদা এবং পরবর্তীতে ১৫ জনের প্রথম শ্রেণিতে আপগ্রেডেশনকে নিয়মবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন।

ইউজিসির অ্যাসেসমেন্ট দল এই আপগ্রেডেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতে বাজেট বরাদ্দ স্থগিত করে। একই সঙ্গে বিতর্কিত আপগ্রেডেশন অবিলম্বে বাতিল এবং এ বাবদ অতিরিক্ত দেওয়া অর্থ ফেরত বা আদায় করে কমিশনকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইউজিসির নথিতে আরও বলা হয়েছে, নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না করলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট চাহিদা ও মূল বরাদ্দের ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক আর্থিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউজিসির নথিতে বিতর্কিত পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৫ জন কর্মকর্তা হলেন—সেকশন অফিসার মো. মজিদুল হক, মো. মাহবুর রহমান প্রধান, মো. মতিয়ার রহমান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আসাদুল হক, মো. নাহিদ পারভেজ, মো. হাফিজুল ইসলাম, মো. আরমান হোসেন, মো. মামুদ-উল-হাসান ও মোছা. মুন্নুজান খাতুন।

সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুল আলম, ফাহিম মিয়া, মো. জাফরুল ইসলাম সরকার ও মো. সাজেদুল করিম, এবং ক্যাটালগার মোছা. লুৎফা বেগম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কিছু আইন এবং ইউজিসির কিছু আইন সব ক্ষেত্রে এক নয়। ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী এটি বৈধ না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ ছিল। যাদের আপগ্রেডেশন ও পদোন্নতি হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই আট, ১০ বা ১২ বছর পর পদোন্নতি পেয়েছেন।

ইউজিসির নির্দেশনার পরও বিভিন্ন খাতে বাজেট বরাদ্দ কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, কিছু কিছু বাজেট কাটছাঁট করেছে। তবে সেগুলো পাব না এমন নয়, ইউজিসির মাধ্যমে অন্য খাতে পাব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি , ‘আমি জানি না, ইউজিসির সঙ্গে কথা বলেন।’ এ কথা বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে। এখানে কোনো অনিয়ম বা নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আরও খবর

Sponsered content