প্রতিনিধি ২ অক্টোবর ২০২৬ , ২:১৩:১১ প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনার পর চলতি বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যটির সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন গভর্নর বিল লি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
বৃহস্পতিবার পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি সাংবাদিকদের জানান, ৫০ বছর বয়সী পাইক এখনো জীবিত আছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার পূর্বাভাস বা চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
১৯৯৬ সালে কলিন স্লেমার নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। হত্যার সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। সে সময় তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়।
বুধবার পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে পেন্টোবারবিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু দুই ডোজ দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে ছিলেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার অনুমতি দেয়।
পাইকের আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় গুরুতর জটিলতা দেখা দেয়। আইনজীবী স্পাইভি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দলের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পাইকের শরীরে শিরায় ওষুধ দেওয়ার পথ বা আইভি লাইন স্থাপনের চেষ্টা করেন। তার বাম হাতেই অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহারের কথা জানান তিনি।
স্পাইভির দাবি, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কয়েক মিনিট পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছিলেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের একটি বন্ধ পর্দার পেছনে অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়েছিল। ফলে এরপর কী ঘটেছিল, তা তারা দেখতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘ওই পর্দার পেছনে কী ঘটছিল, কেউ জানত না।’
পাইকের আইনজীবীরা এখন তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়ার আবেদন করছেন। এর আগে একই ধরনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল জানান, তারা আরও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।
এদিকে টেনেসির গভর্নর বিল লি ঘটনার স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তদন্ত ‘পূর্ণাঙ্গ’ হবে এবং এতে সময় লাগবে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে স্বাধীন তদন্তটি কে পরিচালনা করবে, তা এখনো স্পষ্ট করেননি গভর্নর।
পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দায়িত্বে থাকা টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন অবশ্য নিজেদের প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর অনুমোদিত আইনসম্মত ও নির্ধারিত প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথমবার ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার ব্যবস্থাও ওই প্রোটোকলে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরও তদন্তের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘কী ঘটেছে, তা আমাদের জানতে হবে।’
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। টেনেসির গভর্নর পদপ্রার্থী রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক’ বলে মন্তব্য করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বৈদ্যুতিক চেয়ার ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেরি গ্রিন এর সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি গভর্নর হলে ভবিষ্যতের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করবেন।
২০২৬ সালে টেনেসিতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ব্যর্থ হলো। এর আগে মে মাসে টনি কারাথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় ওষুধ প্রয়োগের জন্য শিরা খুঁজে না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি বাতিল করা হয়। পরে তাকে এক বছরের জন্য মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
গভর্নর লির নতুন স্থগিতাদেশের ফলে আগামী ৩ ডিসেম্বর দণ্ডিত খুনি গ্যারি সাটনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও স্থগিত থাকবে।





















