প্রতিনিধি ২৩ আগস্ট ২০২৬ , ১:৪৪:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
জাপানের রাজধানী টোকিওসহ পূর্বাঞ্চলীয় কানতো অঞ্চলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় রোববার রাত ২টার দিকে ইবারাকি প্রিফেকচারের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
জাপানের সাত মাত্রার শিনদো ভূমিকম্প পরিমাপক স্কেলে টোকিওর আদাচি ওয়ার্ড, ইবারাকি, সাইতামা ও চিবা প্রিফেকচারের বিভিন্ন এলাকায় সর্বোচ্চ ৫-এর নিচের মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। টোকিওর অন্যান্য এলাকা এবং তোচিগি, গুনমা ও কানাগাওয়া প্রিফেকচারে ৪ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার মতে, শিনদো স্কেলের ৫-এর নিচের মাত্রার কম্পনে তাক থেকে জিনিসপত্র পড়ে যেতে পারে এবং তীব্র ঝাঁকুনির কারণে মানুষকে কোনো স্থাপনা বা বস্তু আঁকড়ে ধরতে হতে পারে।
ভূমিকম্পের আগে মোবাইল ফোনে আগাম সতর্কবার্তার অ্যালার্ম বেজে ওঠে। এরপর কয়েকটি এলাকায় প্রায় এক মিনিট পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, সাইতামা প্রিফেকচারের কাওয়াগুচি, চিবা প্রিফেকচারের উরায়াসু এবং টোকিওর কোতো ও এদোগাওয়া ওয়ার্ডে দীর্ঘ-পর্যায়ের ভূকম্পন বা লং-পিরিয়ড গ্রাউন্ড মোশনের দ্বিতীয় স্তরের কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এ ধরনের কম্পনে উঁচু ভবনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে দুলতে পারে। দ্বিতীয় স্তরের কম্পনে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং আসবাবপত্র বা অন্যান্য জিনিসপত্র সরে গিয়ে পড়ে যেতে পারে।
ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য সংগ্রহে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এনএইচকে জানিয়েছে, রাত ৩টা পর্যন্ত কাওয়াসাকি শহরে দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
টোকিওর কোতো ওয়ার্ডের কিয়োসুমি এলাকায় একটি পানির পাইপ ফেটে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এটি ভূমিকম্পের কারণে হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের প্রভাব যাচাই করতে জাপানের রেলওয়ে প্রতিষ্ঠান জেআর ইস্টও বিভিন্ন স্থাপনা পরীক্ষা শুরু করেছে। ভোরের প্রথম ট্রেনগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল।
ইবারাকি প্রিফেকচারের তোকাই গ্রামে ভূমিকম্পের তীব্রতা শিনদো স্কেলে ৩ রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে জাপান অ্যাটমিক পাওয়ার কোম্পানির তোকাই ও তোকাই নং ২ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর তোকাই নং ২ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। তোকাই বিদ্যুৎকেন্দ্রেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তোকাই কেন্দ্রটি বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং তোকাই নং ২ দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদনের বাইরে রয়েছে।
ভূমিকম্পের এক ঘণ্টার মধ্যেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে একটি সমন্বয় কার্যালয়ও স্থাপন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং জনগণকে দ্রুত ও সঠিক তথ্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হওয়া এলাকার বাসিন্দাদের একই মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।





















