স্টাফ রিপোর্টার: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৬:৫০:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নেপালি বংশোদ্ভূত কণ্ঠশিল্পী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও উদ্যোক্তা পিংকী ছেত্রী সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেছেন একক গান ‘ভাব তরঙ্গ’। দীর্ঘ বিরতির পর প্রকাশিত এই গান ইতোমধ্যে শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। সংগীতের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক ও অনুপ্রেরণাদায়ী ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে তিনি বরাবরই আলোচনায় ছিলেন।,

পিংকী জানান, ‘ভাব তরঙ্গ’-এর পরিকল্পনা শুরু হয় ২০২০ সালে, করোনার ভয়াবহ সময়টিতে। তখন সবকিছু থমকে থাকায় গানটির কাজ এগোয়নি। কয়েক বছর পর সংগীতায়োজক অটামনাল মুন গানটি শেষ করার উদ্যোগ নেন।
তবে তখন নিজের কণ্ঠ ঠিক না থাকায় রেকর্ড করতে অনাগ্রহী ছিলেন পিংকী। শেষ পর্যন্ত সুরকারের অনুরোধে স্টুডিওতে গিয়ে একটি ডামি ভয়েস দেন। পরবর্তীতে সেই ডামি কণ্ঠই চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হয়। “নতুন করে আর রেকর্ড করার দরকার নেই, এটাই ফাইনাল”—সুরকারের এমন সিদ্ধান্তেই গানটি প্রকাশ পায়।
গানটির কথা যৌথভাবে লিখেছেন গীতিকার কাজী আশরাফ ও অটামনাল মুন। সুর ও সংগীতায়োজনও করেছেন মুন নিজেই।
পিংকী বলেন, একজন শিল্পী হিসেবে তিনি সবসময় গীতিকথা, সুর ও সংগীতায়োজন নিয়ে বাছবিচার করেন। তবে আস্থার জায়গা থেকে গায়কি মূল্যায়নের দায়িত্ব সুরকারের ওপরই ছেড়ে দেন।
এক যুগের বেশি সময় ধরে সংগীতচর্চা করলেও তাঁর গানের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এ বিষয়ে পিংকীর বক্তব্য, তিনি সুস্থ প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী। খ্যাতির মোহ বা ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা তাঁকে আকৃষ্ট করেনি। “সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য গান করিনি”—বললেন তিনি।
সংগীতাঙ্গনে লোভনীয় প্রস্তাব পেয়েও মানের সঙ্গে আপস না করায় অনেক কাজই ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে জানান এই শিল্পী।
চলতি বছরে নতুন গান প্রসঙ্গে পিংকী বলেন, সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল–এর সঙ্গে গাওয়া একটি দ্বৈত গান প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। এর বাইরে এ বছর আর কোনো গান প্রকাশ পাবে কিনা, তা এখনই নিশ্চিত নন তিনি।
শুধু গান নয়, কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও পিংকীর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। তাঁর ভিডিওগুলোতে উঠে আসে সুস্থ জীবনযাপন, ইতিবাচক মানসিকতা ও অনুপ্রেরণার বার্তা। জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে বিষয়ভিত্তিক গবেষণাকেই তিনি প্রাধান্য দেন।
ভিডিও নির্মাণের আগে বিস্তর পড়াশোনা করতে হয় বলে জানান পিংকী। এ ক্ষেত্রে তিনি তাঁর টিম ‘স্টুডিও শাটার আপ’-এর সদস্যদের সহায়তা পান। দলগতভাবে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ভিডিওর বিষয়বস্তু নিশ্চিত করা হয়।
কনটেন্ট তৈরির অনুপ্রেরণা এসেছে কাছের মানুষের কাছ থেকে। কয়েক বছর আগে এনটিভি–তে উপস্থাপকদের একটি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পরই নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন। তখনই অনেকে পরামর্শ দেন—গানের পাশাপাশি কথার মাধ্যমেও নিজেকে প্রকাশ করা সম্ভব।
নেপালি বংশোদ্ভূত হলেও প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন পিংকী ছেত্রী। পড়াশোনাও করেছেন এখানকার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা গান গাওয়ার জন্যই ভাষা শুদ্ধভাবে রপ্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের ইচ্ছার কথাও স্পষ্ট করেছেন এই শিল্পী। তাঁর ভাষায়, “বংশগতভাবে নেপালি হলেও নিজেকে বাংলাদেশের বাইরের কেউ মনে করি না।”
সংগীতে সংযম, কনটেন্টে সচেতনতা এবং পরিচয়ে আন্তরিকতা—এই তিন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পিংকী ছেত্রী এগিয়ে চলেছেন নিজস্ব পথে। দীর্ঘ বিরতির পর ‘ভাব তরঙ্গ’ যেন তাঁর সেই ধৈর্যশীল যাত্রার নতুন অধ্যায়।



