বিনোদন

‘আমরা কখনও এটা করিনি’

  প্রতিনিধি ১৫ জুলাই ২০২৬ , ২:৫৫:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ

চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে সংলাপের সংখ্যা গোনার চেয়ে চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা ও গভীরতাকে প্রাধান্য দেন অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। তার অভিনীত তেমনই একটি সিনেমা ‘মাস্তুল’। আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে এটি। সেই উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

সিনেমায় বাবুর কোনো সংলাপ নেই, তবে নিখুঁত অভিনয় আর ভাব-অভিব্যক্তিতে পর্দায় চরিত্রটি জীবন্ত করে তুলেছেন তিনি। চরিত্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমনটাই জানালেন এই অভিনেতা।

সিনেমাটির মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানিবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ পাচক মকবুল এবং বন্দর এলাকার এক পথশিশু নূরাকে ঘিরে। তাদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের সমীকরণে পর্দায় উঠে এসেছে নদী বন্দরের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা, একাকীত্ব, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বেঁচে থাকার লড়াই।

‘মকবুল’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাবু। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে আমাদের কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী আছেন, যারা স্ক্রিপ্ট পেলে কয়টা সংলাপ আছে তা মার্ক করে। কিন্তু থিয়েটার থেকে আমরা যারা এসেছি, আমরা কখনও এটা করিনি। অভিনয় আসলে শুধু সংলাপ না, এটি অ্যাকশন ও রিঅ্যাকশন। আমার চরিত্রটির জার্নি বা গ্রাফটা কেমন, সেটাই মূল বিষয়। আমরা সবসময় চেষ্টা করি নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে চরিত্রের মধ্যে ডুবে থাকার।’

‘মাস্তুল’ দেখার আহ্বান জানিয়ে বাবু বলেন, ‘আপনারা সিনেমাটি দেখেছেন, সবাইকে অনুরোধ করব পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি দেখার। সিনেমাটি দেখে একটা গল্প নিয়ে ফিরবেন।’

এ সিনেমায় ফজলুর রহমান বাবু ছাড়াও অভিনয় করেছেন দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন ও সিফাত বন্যাসহ অনেকে।

সিনেমার জন্য অভিনেতা বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে নির্মাতা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমার কাস্টিং ফিলোসফি খুবই সিম্পল। আমার কল্পনার চরিত্রটির সাথে সামনে থাকা একজন রক্ত-মাংসের মানুষের অবয়ব যখন মিলে যায়, তখন তাকেই কাস্ট করি। এই সিনেমায় সবচেয়ে বেশি অডিশন দিতে হয়েছে “সুকানি” চরিত্রটির জন্য। অনেক নামী অভিনেতা এই চরিত্রের দৌড়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমরা দীপক সুমনকে বেছে নিয়েছি, তার কাজের কোনো তুলনা নেই।’

নির্মাতা আরও বলেন, ‘আমি যে সিনেমা দেখতে চাই, সেটাই বানাতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, এই ধরনের সিনেমা দেখার মতো একটি দর্শকশ্রেণী বাংলাদেশে আছে। হয়তো সংখ্যায় খুব বড় নয়, কিন্তু দিন দিন সেই দর্শক বাড়ছে।’

বিশেষ এই প্রদর্শনীতে দেশের শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রাঙ্গনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনী শেষে ‘মাস্তুল’র মেকিং ও থিমের প্রশংসা করেন ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’খ্যাত পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের। তিনি বলেন, ‘পুরো সিনেমাটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। এটি দেখতে অনেকটা প্রামাণ্যচিত্রের মতো মনে হলেও ভেতরে একটি দারুণ গল্প রয়েছে। বিশেষ করে সিনেমায় যে জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা আমাদের অনেকের কাছেই বেশ অচেনা। এমন একটি ভিন্নধর্মী ও সুন্দর থিম নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচালককে ধন্যবাদ।’

উল্লেখ্য, গত বছর মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কার পায় মাস্তুল। এরপর একাধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর এবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।