প্রতিনিধি ১৫ জুলাই ২০২৬ , ২:০০:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়া নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্কের আশঙ্কা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ফিফা তার লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার পর প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন এই ফরোয়ার্ড।
মঙ্গলবার সিবিএস মর্নিংসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বালোগান বলেন, ‘প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল আমি দলে ফিরতে পেরে খুশি। কিন্তু পরে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গিয়ে বুঝতে পারি, এটি বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমার সতীর্থদের মধ্যেও কিছুটা উদ্বেগ দেখেছিলাম, কারণ এমন ঘটনা খুবই ব্যতিক্রমী। ম্যাচ যত এগিয়ে এসেছে, আমি শুধু খেলায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বাইরের এত আলোচনা এড়িয়ে চলা সহজ ছিল না।’
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের ডান গোড়ালিতে অসাবধানতাবশত পা পড়ায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বালোগান। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান তিনি।
তবে পরে ফিফা ওই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পান বালোগান।
ফিফা জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানোর পরই মামলাটি পর্যালোচনা করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল সংস্থা, ফিফার সাবেক এক সভাপতি, সাবেক কয়েকজন তারকা ফুটবলারসহ অনেকেই এর সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের পর লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা ও ফিফার নীতির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি নেতিবাচক নজির তৈরি করেছে।
বিতর্কের সেই সময়টিকে নিজের জন্য বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন বালোগান। তিনি জানান, লাল কার্ড দেখার পর নিষিদ্ধ থাকবেন ধরে নিয়ে অনুশীলনে সতীর্থদের উৎসাহ দেওয়ার কাজ করছিলেন। পরে হঠাৎ জানতে পারেন, তিনি আবার দলে ফিরেছেন।
বালোগান বলেন, ‘দলের বাসে বসেই খবরটি পাই। সবাই চিৎকার-উল্লাস শুরু করে। অনুশীলন মাঠে যাওয়ার পুরো যাত্রাটাই ছিল বেশ রোমাঞ্চকর।’
তবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিলেন বলেও জানান তিনি।
বালোগান বলেন, ‘আমরা সবাই পেশাদার খেলোয়াড়। তাই দলে ফেরার ঘোষণার প্রাথমিক উত্তেজনা কাটিয়ে ওঠার পর মাঠের দায়িত্বে মনোযোগ দেওয়া খুব কঠিন ছিল না।’
তবে বিতর্কের পর মাঠে প্রত্যাশিত প্রভাব রাখতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। বেলজিয়ামের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। যদিও পুরো টুর্নামেন্টে তিন গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন বালোগান















