নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ জুন ২০২৬ , ৯:৩৭:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর ধানমন্ডির শুক্রাবাদে অবস্থিত ‘আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার’ এবং এর কর্ণধার হিসেবে পরিচিত প্রফেসর ড. এম মুজিবুল হককে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। স্টেম সেল থেরাপি, অল্টারনেটিভ মেডিসিন ও ফাংশনাল মেডিসিনভিত্তিক সেবা কার্যক্রম, চিকিৎসা-সংক্রান্ত দাবি, অনুমোদন এবং পেশাগত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী, স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট মহল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্টেম সেল থেরাপির সম্ভাব্য সুফল তুলে ধরে রোগীদের আকৃষ্ট করে। তাদের দাবি, চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত উচ্চ হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন চিকিৎসা-পরবর্তী সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ব্যবহৃত কিছু চিকিৎসা উপকরণ ও ইনজেকশনের অনুমোদন এবং আমদানির বৈধতা সম্পর্কে তারা সন্তোষজনক তথ্য পাননি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মানবদেহে নতুন কোনো ওষুধ, ইনজেকশন বা থেরাপি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন, নিরাপত্তা যাচাই, গবেষণা তথ্য এবং ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অতীতে প্রতিষ্ঠানটির কিছু কার্যক্রম নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ ও আপত্তির বিষয়ও আলোচনায় আসে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো আইনি সিদ্ধান্ত বা বিচারিক রায় পাওয়া গেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মুজিবুল হকের পেশাগত পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, তিনি নিজেকে যেভাবে চিকিৎসক বা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করেন, তার কিছু দিক নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অন্যদিকে মুজিবুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি মূলত ন্যাচারাল, অল্টারনেটিভ ও ওয়েলনেসভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেন এবং তার কার্যক্রম আইনসম্মত।
যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত কার্যক্রম গবেষণা ও বিকল্প স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতির আওতাভুক্ত। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সেমিনার পরিচালিত হয়েছে।
তবে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে জনমনে বিদ্যমান বিভ্রান্তি দূর হবে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্ত পক্ষের আনুষ্ঠানিক নথিভিত্তিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।




















