সারাদেশ

বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি গোলাম সরোয়ার হিরু আর নেই

  প্রতিনিধি ২৮ জুলাই ২০২৬ , ১২:২২:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক গোলাম সরোয়ার হিরু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন তার সহধর্মিণী ও কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বেগম নুর আফরোজ হেপী।

মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গোলাম সরোয়ার হিরু দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ৩০ আগস্ট বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন গোলাম সরোয়ার হিরু। তিনি বরগুনা জেলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী ও পরিচিত মুখ হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন তিনি। এর আগে তিনি পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্থানীয় উন্নয়ন, জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল বহুমাত্রিক ও পরিবর্তনশীল। ইসলামী ঐক্যজোটের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে প্রবেশের পর বিভিন্ন সময়ে তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের কারণে তিনি একাধিকবার আলোচনায় উঠে আসেন।

২০১৩ সালে বরগুনা-২ আসনের উপনির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করলে বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন আস্থাভাজন, স্পষ্টভাষী ও সাহসী নেতা। যদিও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন, তবুও বরগুনার রাজনীতিতে তার উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী।

তার মৃত্যুতে বরগুনা-২ আসনসহ পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content