সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা ৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:৫০:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের ভেতরে ও আশপাশে কুকুরের অবাধ বিচরণে চরম আতঙ্কে রয়েছেন রোগী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে শিশুসহ অন্তত ৬–৭ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, সুস্থতার আশায় মানুষ যেখানে আসে, সেই সদর হাসপাতাল চত্বরেই এখন কুকুরের ভয়াবহ উপদ্রব। হাসপাতালের ভেতরে ও আশপাশে একাধিক কুকুরের আস্তানা গড়ে ওঠায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন রোগী, তাদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা থাকলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এরই মধ্যে আহতদের মধ্যে রয়েছে বলাইনগুয়া এলাকার বাসিন্দা আকাশের পাঁচ বছরের শিশু আযান এবং কাটলি এলাকার লিটন মিয়ার নয় বছরের মেয়ে তাইবা। স্বজনদের দাবি, তাইবার অবস্থা একপর্যায়ে আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে।
আহত তাইবা জানায়, “আমি বাসার সামনে খেলছিলাম। হঠাৎ করে একটি কুকুর এসে আমাকে কামড় দেয়। পরে আমার নানু এসে আমাকে বাঁচায়।”
আযানের দাদু বলেন, “আমার নাতি বাসার সামনে খেলছিল। হঠাৎ করে ৭–৮টি কুকুর এসে তাকে কামড় দেয়। পরে আমার বোন এসে রক্ষা করে। চিকিৎসা করানোর পর এখন মোটামুটি ভালো আছে। হাসপাতালের কুকুরগুলোর কারণে আমরা ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারি না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
তাইবার মা মুন্নি আক্তার বলেন, “আমার মেয়ে সকালে মাদ্রাসায় যাচ্ছিল। তখন ৫–৬টি কুকুর মিলে তাকে কামড় দেয়। প্রায় ৪০–৫০টি কামড়ের ক্ষত হয়। সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা করিয়ে বাড়িতে এনেছি। এখনও নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ খাওয়াচ্ছি। আমি চাই, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক, যেন আর কোনো মায়ের সন্তান এভাবে আহত না হয়।”
এ বিষয়ে লাশকাটা ঘরের ডোম দিপু বলেন, “মর্গে কোনো লাশ আনলে কুকুরগুলো তাড়া করে। এখানে এত কুকুর যে আমাদের বাচ্চারা ঘর থেকে বের হতে পারে না। কয়েকটি ছাগল এনেছিলাম, কুকুরে খেয়ে ফেলেছে। কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ও রোগীদের উভয়েরই সমস্যা বাড়বে।”
হাসপাতাল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতালের ভেতরে কয়েকটি কুকুর একসঙ্গে থাকে এবং ময়লা-আবর্জনা খায়। বর্তমানে যেকোনো মানুষকে তাড়া করছে ও কামড়াচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনরা চরম বিরক্ত ও আতঙ্কিত। দ্রুত কুকুর অপসারণের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ একরামুল হাসান বলেন, “কুকুরগুলো বাইরে থেকেও আসে, কিছু এখানে অবস্থান করে। আমরা সরানোর চেষ্টা করছি, তবে পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। পৌর প্রশাসন বা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে স্থায়ী সমাধান হবে।”
নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। আহত শিশুর বিষয়ে সদর হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলেছি। কুকুর হত্যা বিষয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। আমরা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কুকুরের ভ্যাকসিনেশন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করবো। সময় নির্ধারণ হলেই যৌথভাবে কাজ শুরু করা হবে।”
নেত্রকোনার সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, দ্রুত কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে সদর হাসপাতাল এলাকায় কুকুরের আতঙ্ক আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নেয়।














