সারাদেশ

কাল খুলে দেওয়া হতে পারে কাপ্তাই বাঁধের সব গেট

  প্রতিনিধি ১৭ জুলাই ২০২৬ , ৪:০৬:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পানি বাড়ছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে। এ অবস্থায় হ্রদের পানি ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। আগামীকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ে গেট (জলকপাট) খুলে দেওয়া হতে পারে।

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। বাঁধে পানির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে আসায় উজান ও ভাটি এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই আগাম সতর্কতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে উঠিয়ে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬টি গেটে ৬ ইঞ্চি করে উঠিয়ে প্রায় প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হবে বলে জানিয়েছেন পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা।

গেট খোলার বিষয়ে গতকাল কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আগাম সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির ঢল এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে খোলার সময় পরিবর্তন হতে পারে। যদি ঢলের পরিমাণ আরও বাড়ে, তবে স্পিলওয়ে গেট খোলার পরিমাণও পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে কাপ্তাই বাঁধের ভাটি অঞ্চল অর্থাৎ রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের এবং নৌযানগুলোকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, ‘কাপ্তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট সচল রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি হ্রদ থেকে নিষ্কাশিত হচ্ছে। এরপরও পানির চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা।’

আরও খবর

Sponsered content