প্রতিনিধি ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২:৩২:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সরকারবিরোধী পোস্ট ও অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিদিন হাজার হাজার সমালোচনামূলক পোস্ট ও অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। এ ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সমালোচক ও ব্যঙ্গকার। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে বলেন, ইনস্টাগ্রামে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে সরকার মানুষের প্রশ্ন থামাতে পারবে না। তার ভাষ্য, ইনস্টাগ্রাম কেবল মানুষের প্রশ্ন ও মতামত প্রকাশের একটি মাধ্যম। এসব প্রশ্নের পেছনের কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরেও রয়েছে। তাই পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দিলেই সেই সমস্যাগুলো দূর হবে না।
দীপকে আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের সেন্সরশিপ সরকারের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তার সহযোগী আশুতোষ রাংকাও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভারতে হাজার হাজার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং লাখ লাখ ভিডিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন। ব্যঙ্গকার ও গীতিকার বরুণ গ্রোভার জানান, ভারতের সরকারের ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্যের ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা করে লেখা তার একটি কবিতার সংগীতায়িত সংস্করণ ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক্সে পোস্টটির স্ক্রিনশট প্রকাশ করে গ্রোভার ব্যঙ্গাত্মকভাবে লেখেন, তার নিরীহ কবিতাটির সংগীতায়িত সংস্করণ একটি ‘ভীরু সরকার’-এর কারণে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হয়তো ২০৪৭ সালে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। ইনস্টাগ্রামের পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন (আইটি অ্যাক্ট) অনুযায়ী আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে কনটেন্টটি সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
‘দেশভক্ত’ নামের আরেক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্মও তাদের কনটেন্ট সেন্সর করার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সরকারের সমালোচনামূলক এমনকি কৌতুকধর্মী কনটেন্টও সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ভারতের আইনি সংবাদমাধ্যম লাইভল জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) দেওয়া হলফনামা নিয়ে তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রকাশিত একটি রিল সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাইভল এক্সে জানায়, ভিডিওটিতে কেবল নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। কিন্তু ইনস্টাগ্রাম জানিয়েছে, আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে কনটেন্টটি সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
সিজেপির উত্থানও ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। অল্প সময়ের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটি বিপুলসংখ্যক অনুসারী অর্জন করে। সংগঠনটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হওয়া নিটবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী দিল্লিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভেও সক্রিয় ছিল সংগঠনটি।





















