শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা এখন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক

  প্রতিনিধি ১৭ জুলাই ২০২৬ , ৮:৪৯:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ ও এ এস এম সানোয়ার রাব্বী প্রমিসের বিরুদ্ধে। ‎গত ৭ জুলাই এক বিজ্ঞপ্তিতে ৬৮ সদস্যবিশিষ্ট নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

‎কমিটি প্রকাশের পরই তাদের ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইন অনুষদ কমিটির সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ এবং উপ-ক্রীড়া সম্পাদক পেয়েছিলেন সানোয়ার রাব্বী।

‎তবে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ওই সময় আওয়ামী লীগের স্বর্ণযুগ ছিল। ক্যাম্পাস এবং হলের পরিস্থিতির কারণে কৌশলে বা পারিপার্শ্বিক সুবাদে তৎকালীন ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে আমার উপস্থিতি বা সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, ছাত্রত্ব চলে গেলে আমাদের জীবন অন্ধকার হয়ে যেত। জোর-জবরদস্তি করে মাঝে মাঝে তারা আমাদের প্রোগ্রামে ডেকে নিত, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভালো করেই জানেন। তবে আমি যে ২০২২ সাল, ২০২৪ সাল বা এর আগেও ওপেন ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এবং ভিডিও বার্তা দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি, তার সমস্ত ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে।’

এদিকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করে সানোয়ার রাব্বি বলেন, ‘২০২২ সালের ছাত্রলীগের সেই কমিটিতে আমাদের আইন অনুষদ থেকে অনেকেরই নাম না জানিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আমি কখনোই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এমনকি আমার কোনো ছবিও কেউ দেখাতে পারবে না। অযাচিতভাবে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করার কারণে বিভাগেও বিষয়টি জানাই। পরবর্তীতে জুলাই আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেই। জাতীয়তাবাদী আদর্শের কারণেই ছাত্রদলে যোগ দিয়েছি এবং কাজ করে যাব।’

‎এ বিষয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, তারা জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। পাশাপাশি অতীতে ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাদের দেখা গেছে। এ ছাড়া বাধ্যতামূলক ছাত্রলীগ করতে হতো বলে অনেকের অনিচ্ছায় কিংবা না জানিয়ে কমিটিতে রাখা হয়। এসব বিষয় সংশ্লিষ্টরা যাচাই করেই তাকে দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে পরবর্তীতে যদি তার ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততার তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও খবর

Sponsered content