প্রতিনিধি ১৭ জুলাই ২০২৬ , ৭:১৮:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছেলের পদক বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন মা, ‘আমার বুকের ধন কোথায় চলে গেলিরে আমার বুকের ধন, আমার চোঁখের মণি, কোথায় চলে গেলিরে তুই! আমার বুকে আর কোনোদিন ফিরে আসবি না সোনামানিক।’
আজ শুক্রবার সাদিকের বাড়িতে আশে পাশের লোকজন জড়ো হয়েছে। বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেছে।
নিহত সাদিক (২৬) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী শেখের ছেলে। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সাদিক মেজো। তিনি সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পেয়েছিলেন। পাশাপাশি সাদিক চমৎকার ফুটবল খেলতেন। গোলরক্ষক হিসেবে গোয়ালন্দে সাদিকের পরিচিতি ছিল ব্যাপক।
সাদিকের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার আমার বুকের ধন সাদিক ওর বাবার কাছে ফোন করে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। সাদিকের সঙ্গে আমার তিন দিন আগে কথা হয়েছিল। সামনের সপ্তাহে বাড়িতে আসবে বলে জানিয়েছিল। আমার সোনার ছেলে আর মা বলে আমাকে ডাকবে না, আমি কি নিয়ে বেঁচে থাকব। আমার ছেলে এভাবে চলে যাবে আমি তা মেনে নিতে পারছি না। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটি’র ডুবুরি দল দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে। দীর্ঘ অভিযানের ৮ ঘন্টা পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিতাইগঞ্জের কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সাদিক হোসেন নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন। পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই ছিল তার কাজ। তিনি সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পেয়েছিলেন।
গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমির চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সাদিক চমৎকার ফুটবল খেলতেন। গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমিসহ গোয়ালন্দের অনেক ফুটবল দলের গোল রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। সাদিক একজন নম্র-ভদ্র ও ভালো ছেলে। সাদিকের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
নিহত সাদিকের চাচা ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা জেনেছি সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদীতে ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। ওর সাথে আরও ৩ জন সদস্য ছিলেন। স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা ডুবুরি সাদিক ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা তল্লাশির পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ বাড়িতে এনে সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাদিক নম্র, ভদ্র এবং ব্যক্তিগতভাবে অনেক ভালো একটা ছেলে। দুই বছর আগে বিয়ে করেন। তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমাদের দাবি সাদিক একজন রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি। সে নদীতে ডুবে মারা যাবে এমনটা হওয়ার কথা নয়। তার মৃত্যুতে রহস্য লুকিয়ে আছে। প্রকৃতভাবে তদন্ত করে বিষয়টি পরিষ্কার করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’





















