প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০২৬ , ৬:০১:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বিয়ালী বাজারে অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার রাত ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল শুক্রবার রাতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে দোকানগুলোর ভেতরে থাকা সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে টিনশেডের কাঁচাপাকা মার্কেটটির সাতটি দোকানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ টাকা, কিন্তু দোকান মালিকদের তথ্যে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে জানান তিনি।
ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ লিডার শফিকুল ইসলাম জানান, রাত ৩টা ২০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ৩টা ৪০ মিনিটে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান তারা এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মালিক মো. মাসুক মিয়া বলেন, ‘আগুনে শুধু দোকানের মালামালই নয়, পুরো ভবনের কাঠামোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেয়ালগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থাপনাটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে।’
স্থানীয়রা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক ব্যবসায়ী মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ও ঋণের অর্থ দিয়ে তারা ছোট ছোট ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন। আগুনে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক বিপ্লব কুমার দেবনাথ জানান, ‘এই মার্কেটে আমরা দুই ভাই ব্যবসা করি। পরিবারে উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ছিল আমাদের এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।’
ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দোকানে থাকা পণ্য, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক সরঞ্জামসহ আনুমানিক ২২ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
আজ শনিবার ফেঞ্চুগঞ্জে সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে ফেঞ্চুগঞ্জে ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে তার দেখা হয়নি, তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যবসায়ীদের সাধ্যমতো সহযোগিতার কথা প্রতিবেদককে জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অনেকে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। তারা ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে সরকার, জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক-মানবিক সংগঠনের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত সহায়তা না পেলে ভবিষ্যতে সাতটি পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করাকঠিন হয়ে পড়বে।















