প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০২৬ , ৮:৫১:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি অর্জনের স্থান নয়; এটি একজন মানুষকে দক্ষ, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’
আজ শনিবার বিকেল ৩টায় অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এডাস্ট) অডিটোরিয়ামে ‘নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, ‘বর্তমান যুগে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং গণমাধ্যমের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এম. শামসুল আলম লিটন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, আধুনিক গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এমন একটি শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে জ্ঞান, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক তৈরি হবে।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; গবেষণা, উদ্ভাবন, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি এবং বাস্তব দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি।’
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৌদি-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আশরাফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ও শিল্পখাতের সমন্বয়ই দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও বিদেশের কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যসচিব মো. কামরুজ্জামান লিটু ও সদস্য কামরুন নেহার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে তাদের সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ আলী খান। তিনি বলেন, ‘অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা গবেষণা, উদ্ভাবন এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করুক।’
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল কাইউম সরদার, পরিচালক (অর্থ) সৈয়দা সারাহ আনওয়ার, উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সিএসই বিভাগের চেয়াম্যান শারমিন আকতার,বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, কো-অর্ডিনেটর, এসডিআই-এর চিফ অপারেটিং অফিসার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত, নৃত্য এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রাণবন্ত এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা ঘটে।





















