প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০২৬ , ৪:৪৪:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনে এক সময় মুখরিত থাকতো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। তবে এখন আর সেই জৌলুস নেই সেখানে। দিন বদলাচ্ছে ক্রমেই শিল্পীদের আড্ডায় মুখরিত এফডিসি হয়ে পড়ছে তারকা শূন্য। শুধু তাই নয়, অবহেলা আর অযত্নের কারণে নির্মাতা-প্রযোজকরাও এফডিসি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমানে এমন হয়েছে সামান্য বৃষ্টির পানিতেই যেন অচল হয়ে যায় এফডিসি। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, ড্রেন উপচে কার্যালয় পর্যন্ত জলাবদ্ধ হয়ে যায়।
বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে একসময় মোট ৯টি শুটিং ফ্লোর ছিল। তবে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ফ্লোর বহুতল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং ৬ নম্বর ফ্লোর বর্তমানে স্টোর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচটি ফ্লোরে কাজ করা যাচ্ছে।
কর্মীরা জানান, মুষলধারে ঘণ্টাখানেক বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন ফ্লোরের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। আর এ কারণে শুটিংয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে।
বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান জানিয়েছেন, বিভিন্ন ফ্লোরের ছাদ ও ড্রেন মেরামতের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ টাকা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাস পাওয়া গেলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএফডিসি বহুতল কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালে। তবে নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে। দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। নির্মাণকাজ চলায় প্রতিষ্ঠানের আয় আরও কমে গেছে। বর্ষায় বেহাল ফ্লোরগুলো ভাড়া নিতে চান না অনেকে। ২০১৬ সালের পর নতুন কোনো যন্ত্রপাতি কেনা হয়নি। নির্মাতারা পুরোনো যন্ত্রপাতি ভাড়া নিতে চান না।’
নির্মাতা তানিম নূর বলেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার জন্য বিশাল ট্রেনসেট নির্মাণে বিএফডিসির বড় ফ্লোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে শুটিং করতে গিয়ে টয়লেটের স্বল্পতা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রপাতি বাইরে থেকে ভাড়া করতে হওয়ায় খরচও বেড়েছে।’
বিজ্ঞাপনী সংস্থা ব্ল্যাকবোর্ডের সহকারী ব্যবস্থাপক রুবায়েত বিন বাশারও একই ধরনের সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, ফ্লোরগুলোতে গরম বেশি, পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে এবং টয়লেট সংকট এখনো বড় সমস্যা।
বিএফডিসির পরিচালক (কারিগরি ও প্রকৌশল) মামুনূর রশীদ বলেন, ‘একসময় ফ্লোরগুলো এতটাই ব্যস্ত থাকত যে তালা লাগানোরও সময় পাওয়া যেত না। এখন অনেক ফ্লোরে তালা খুলতেই কষ্ট করতে হয়।’
তিনি মনে করেন, শুটিং ফ্লোরগুলো দ্রুত সংস্কার না করলে প্রতিষ্ঠানটির আয় আরও কমে যাবে।
বর্তমানে বিএফডিসির মাসিক ব্যয় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা, আর গড় আয় মাত্র ৩০ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ আধুনিকায়ন, কর্মীদের সুবিধা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে ১১৮ কোটি ৭ লাখ টাকা অনুদান চেয়েছে।
১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএফডিসি একসময় দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তবে ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারা, অবকাঠামোগত অবনতি এবং দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।















