অর্থ-বাণিজ্য

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্টিতে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা ল্যাব’ উদ্বোধন

  প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০২৬ , ৫:০৪:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণা, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণা ল্যাব’ উদ্বোধন করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত দূরদর্শী উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে এআই গবেষণা ল্যাব ও ‘এআই প্রজেক্ট কম্পিটিশন ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ৬টি বিজয়ী দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবীর, উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মাসুম ইকবাল ও কম্পিউটিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সারওয়ার হোসেন মোল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এই এআই রিসার্চ ল্যাবটি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্রে পরিণত হবে। এটি শিক্ষার্থীদের অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার, প্রভাবশালী গবেষণা পরিচালনার, উদ্ভাবনী প্রোটোটাইপ তৈরির এবং শিল্প-উপযোগী সমাধান উদ্ভাবনের সুযোগ করে দেবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আজ এমন এক সময়ে একত্রিত হয়েছি যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিশ্বজুড়ে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই-শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা, প্রশাসন এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি অংশে মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে আসছে। এআই কেবল একটি প্রযুক্তিই নয়; এটি ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং উদ্ভাবনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।’

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত দূরদর্শী উদ্যোগগুলো দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। আমরা যখন একটি ‘‘নতুন বাংলাদেশ’’ গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছি, তখন সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং অত্যন্ত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে।’

তিনি বলেন, ‘‘‘নতুন বাংলাদেশ’’ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সরকার একটি জাতীয় এআই নীতি প্রণয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতায় সজ্জিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ড্যাফোডিলের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দক্ষ এআই পেশাদার তৈরি, প্রভাবশালী গবেষণার অগ্রগতি এবং বাস্তব উদ্ভাবনকে চালিত করার মাধ্যমে এই যাত্রায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি-চালিত অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, ‘আমরা শুধু একটি এআই-এনাবল্ড বিশ্ববিদ্যালয় নয় বরং একটি এআই-নেটিভ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে চাই। যেখানে এআই কেবল একটি প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না; বরং আমাদের নিজস্ব এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান তৈরি হবে।’

নবপ্রতিষ্ঠিত এআই গবেষণা ল্যাব শিক্ষাঙ্গন, শিল্পখাত ও সরকারের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে উদ্ভাবননির্ভর একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে এবং দেশের এআই-নির্ভর ভবিষ্যৎ নির্মাণে অর্থবহ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

আরও খবর

Sponsered content