অর্থ-বাণিজ্য

গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ আহরণে বছরে ৩০ কোটি ডলার আয়ের সম্ভাবনা

  প্রতিনিধি ২৯ জুন ২০২৬ , ১১:২২:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ এবং মৎস্য আহরণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকলেও তা কেবলই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। সঠিক বিনিয়োগ ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে এই খাত থেকে বছরে কমপক্ষে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আয় করা সম্ভব হবে। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আজ সোমবার ‘বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি সেমিনারে বক্তারা এ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) ও জাপান আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের ডেপুটি চিফ অব মিশন তাকাহাশি নাওকি, জাইকার বাংলাদেশ কার্যালয়ের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। সভাপতিত্ব করেন মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী)। সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা জানান, বঙ্গোপসাগরে প্রচুর ইয়োলোফিন ও বিগআই টুনা মাছ পাওয়া যায়। জাপানের বাজারে উচ্চ মানের এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে মাঝারি মানের টুনা মাছের বিপুল চাহিদা রয়েছে; কিন্তু গভীর সমুদ্র থেকে টুনা মাছ আহরণের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্লিট বা জলযানের অভাব রয়েছে। ফলে এ খাতে অবকাঠামো গড়ে তোলা এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

এসিআই অ্যাগ্রো লিংকের বিজনেস ডিরেক্টর সৈয়দ মো. ইশতিয়াক টুনা মাছের বাণিজ্যিক উপযোগিতার হিসাব তুলে ধরে জানান, ১০টি মাঝারি আকারের বোটের একটি বহর বা ফ্লিট দিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য আহরণ করলে বছরে ৭৮ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। এ জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ লাগবে, যে টাকা উঠে আসতে সময় লাগবে পাঁচ বছর। তবে আন্তর্জাতিক মানের ২৫ থেকে ৫০টি বৃহৎ ও উন্নত প্রযুক্তির গভীর সমুদ্রগামী জাহাজ নামানো গেলে বছরে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টন ভালো মানের টুনা ধরা যাবে জানিয়ে সৈয়দ মো. ইশতিয়াক বলেন, এই মাছের বৈশ্বিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি ডলার বা সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। আবার সংগৃহীত এসব মাছ দেশে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে এই আয়ের পরিমাণ আরও তিন গুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব সমুদ্রসীমা সাড়ে ৬০০ কিলোমিটারের বেশি। এর মধ্যে আমরা বিদ্যমান মাছ ধরার যান নিয়ে শুধু ৪০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত যেতে পারি। জাহাজের আকার বড় হলে ৭০-৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাওয়া যায়। অর্থাৎ সমুদ্রে বড় মাছ আহরণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য বড় আকারের মাছ ধরার ট্রলার ও জাহাজ তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

চিংড়িশিল্প নিয়ে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিডার নির্বাহী সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক। তিনি বলেন, দেশে ২ লাখ ৬২ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চিংড়ি চাষ হয়; কিন্তু সনাতনপদ্ধতির কারণে হেক্টরে উৎপাদিত হয় মাত্র ৫০০ কেজি। অন্য দেশে প্রতি হেক্টরে চিংড়ি উৎপাদিত হয় ২০ হাজার কেজি। এ সময় চিংড়ি খাতের সংকট কাটাতে কঠোর জৈব–নিরাপত্তাসমৃদ্ধ একটি সুনির্দিষ্ট ‘চিংড়ি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। সেমিনারে মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বঙ্গোপসাগরকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করে আমাদের উন্নয়ন কৌশল নতুনভাবে সাজাতে হবে। অব্যবহৃত সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ রয়েছে। এ জন্য মৎস্য খাতকে কেবল শুরু হিসেবে দেখা উচিত।

আরও খবর

Sponsered content