অর্থ-বাণিজ্য

ব্যবসা সহজীকরণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘ন্যাশনাল টাস্কফোর্স’ গঠন

  প্রতিনিধি ১১ আগস্ট ২০২৬ , ৩:১৫:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ব্যবসা পরিচালনা ও বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল টাস্কফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’ গঠন করেছে সরকার। এই টাস্কফোর্সের প্রধান লক্ষ্য হলো বিদ্যমান সকল জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে একটি বিনিয়োগবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা। সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

টাস্কফোর্সের কাঠামো অনুযায়ী, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে পরিবেশমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের। এছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারীকেও এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, নৌপরিবহন সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এবং রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজকে (আরজেএসসি) সদস্য করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এফবিসিসিআই, এফআইসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সভাপতিদেরও এই টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

টাস্কফোর্সের কার্যপরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। এটি মূলত ব্যবসা সহজীকরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের গতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। লাইসেন্স প্রাপ্তি, বিভিন্ন দপ্তরের ছাড়পত্র, কর ও শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা, ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারের সমস্যা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার ধাপগুলো সহজ করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করবে এই কমিটি। এছাড়া সরকারি সেবায় ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ও স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে হয়রানি কমানোর নীতিগত দিকনির্দেশনাও দেবে এই টাস্কফোর্স।

ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় এই টাস্কফোর্স বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যকার আন্তঃজটিলতা দ্রুত নিরসন করবে এবং বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখবে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ এবং কাজ সম্পাদনে বিলম্বের বিষয়গুলো সরাসরি তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে। প্রতি তিন মাস অন্তর টাস্কফোর্সের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে দেশে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আরও খবর

Sponsered content