সারাদেশ

গ্যারেজে যাওয়ার পর নিখোঁজ, পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তরুণের মরদেহ উদ্ধার

  মুহাম্মাদ আল আমীন সাইফ ১১ আগস্ট ২০২৬ , ১:২৫:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা মেরামতের গ্যারেজে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন ১৮ বছর বয়সী ইব্রাহিম হাওলাদার। কয়েক ঘণ্টা পর রাতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডোবাটি থেকে ইব্রাহিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব মাথায় মহছেন আউলিয়া হোটেল সংলগ্ন একটি দোকান ভাড়া নিয়ে অটোরিকশা মেরামতের কাজ করতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার সকাল ১১টার দিকে বাড়ি থেকে গ্যারেজের উদ্দেশে বের হন ইব্রাহিম। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে রাতে গ্যারেজের আশপাশে খোঁজার একপর্যায়ে পেছনের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় টর্চের আলো ফেললে একটি নিথর দেহ দেখতে পান তারা। কাছে গিয়ে সেটি ইব্রাহিমের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন স্বজনরা।

ইব্রাহিমের মা নয়নতারা বলেন, “আমার ছেলে সকাল ১১টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডের গ্যারেজে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে গ্যারেজের পেছনের ডোবায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।”

পরিবারের পক্ষ থেকে ইব্রাহিম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যেতে পারেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও আশপাশে বিদ্যুতের কোনো সংযোগ ছিল কি না, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং কীভাবে তিনি সেখানে গেলেন, এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তারা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ইব্রাহিমের পৈতৃক বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া গ্রামে। প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে তার পরিবার ফরিদগঞ্জ কলেজ গেট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। তার বাবা নয়া মিয়া হাওলাদার ফরিদগঞ্জ পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সরদার হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর জাকির হোসেন গাজী বলেন, “রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইব্রাহিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাই। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এরশাদ উল্লাহ বলেন, “সংবাদ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ইব্রাহিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

আরও খবর

Sponsered content