প্রতিনিধি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২:৩১:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
হামের টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘ সময়ের গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে দেশে অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের টিকাদান ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেন তিনি। শনিবার রাজধানীর বনানীর কড়াইল টিএনটি খেলার মাঠে হামের দ্বিতীয় ধাপের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউনিসেফের ডেলিগেটেড ওয়েতে সরাসরি কেনাকাটার পরিবর্তে আগের সরকার ওপেন টেন্ডার ব্যবস্থায় যেতে চেয়েছিল। বিদেশি সংস্থাগুলো এ বিষয়ে একাধিকবার অনুরোধ করলেও তা শোনা হয়নি এবং এতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এর ফলে চার বছরের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, দায়িত্ব নেওয়ার পর তার খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর টিকাদান কার্যক্রমের মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিটি শিশুর মৃত্যু সরকারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং বিব্রতকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। গত ৫ এপ্রিল থেকে তিন ধাপে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হয়। এর মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।
এখনও যেসব শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়েছে, তাদের জন্য নতুন করে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে। এ ধাপে আরও ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের কেন্দ্র করে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম।
জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য ১০ লাখ ডোজ টিকা সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গেও এসব টিকা ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে শিশুদের চিকিৎসায় দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহারেরও প্রশংসা করেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন। আইসিডিডিআর,বির চিকিৎসকদের উদ্ভাবিত কম খরচের একটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মাত্র ১৫০ টাকা ব্যয়ে পানির বোতল ও নাইট্রাস পেপার ব্যবহার করে কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি সংকটের সময়ে বিশেষ করে শিশুদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং এর মাধ্যমে অনেক শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
দেশের চিকিৎসকদের ভূমিকার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। করোনাভাইরাস মহামারিসহ বিভিন্ন সংকটের সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মহামারির সময় বাংলাদেশের চিকিৎসকরা নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে রোগীদের সেবা দিয়েছেন। তাদের দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করেছে।





















