প্রতিনিধি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২:০০:১২ প্রিন্ট সংস্করণ
কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশে আটকে রাখা ১৭ জনকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)। শুক্রবার টেকনাফ সদরইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী এলাকার একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।
এসআরবি-১৫ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার ভিত্তিতে একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র টেকনাফের দক্ষিণ লম্বরী এলাকার মো. ইব্রাহিমের বাড়িতে অসহায় কিছু মানুষকে জোরপূর্বক মালয়েশিয়া পাঠানোর উদ্দেশে জড়ো করেছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই বাড়িতে আভিযান চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘরের তালা ভেঙ্গে ভেতরে আটকে রাখা ১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মো. করিম জানান, পাঁচ দিন আগে তিনি মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য সাইফুল নামে এক ব্যক্তির কাছে যান। সেদিনই নৌপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা ছিল। তবে তাকে ও অন্যদের কয়েক দফা হাতবদল করা হয়। পরে তাদের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়।
করিম বলেন, আমরা নিজের ইচ্ছায় মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য টেকনাফে সাইফুলের কাছে এসেছিলাম। কিন্তু পরে আমাদের আটকে রাখা হয়। কোনো উপায় না পেয়ে আমি সেখান থেকে পালিয়ে আসি।
এসআরবি-১৫ জানায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বাড়ি কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। তাদের মধ্যে বান্দরবানের লামা এলাকার মো. জাফর আলম, মো. নুরুল হুদা, মো. শাহিন শাহরিয়ার হৃদয়, মো. বেলাল, মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. সাফায়েত হোসেন রয়েছেন। এ ছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ এলাকার মো. মামুনুর রশিদ, মো. তাফসির, মো. আশরাফ হোসেন, মো. বাবুল, মো. আনসার উদ্দিন, মো. নুরুল আফসার, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. জোবায়ের ও মো. নুর মোস্তফাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার পর পলাতক ও অজ্ঞাতনামা পাচারকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে এসআরবি-১৫-এর গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ভিকটিমদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া ১৭ জনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের পরবর্তী আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।





















