প্রতিনিধি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১:৩৫:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
সৌদি আরবের দিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। শনিবার ভোরে জোটের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পৃথক পোস্টে জোট জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের দিকে এবং ড্রোন দুটি রাজধানী রিয়াদের দিকে যাচ্ছিল। সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। তবে হামলা প্রতিহত করার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি জোট। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
এদিকে, রাতভর খামিস মুশাইত ও আবহা শহরের বাসিন্দাদের সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। তবে রিয়াদের জন্য কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চল এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে হুথিরা। গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকে দেশটির ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে গোষ্ঠীটি। এসব হামলায় লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হুথিদের হামলায় সৌদি শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই লোহিত সাগরের পথটিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত রয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির সামরিক প্রধান এবং প্রতিরক্ষা সহযোগী পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তারা সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য তৈরি হওয়া হুমকি পর্যালোচনা করেন।
গত মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করাই এ চুক্তির লক্ষ্য বলে জানিয়েছিল দেশগুলো।
শনিবার সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান জানান, রিয়াদে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সৌদি আরবের ওপর হামলা মোকাবিলায় দুই দেশের চলমান যৌথ পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এ পদক্ষেপ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পরিচালিত হবে।





















