প্রতিনিধি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৮:২৬:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন স্বৈরাচার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মানবাধিকার, গুম প্রতিরোধ, এসআরবি ও সাইবার আইনে গণবিরোধী সংশোধনী আনয়ন এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতার দাবি তুলে এ মানববন্ধন করেছে এনসিপি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘তারেক রহমানের হাতে গণতন্ত্র সুরক্ষিত নয়। মানবাধিকার তারেক রহমানের হাতে সুরক্ষিত নয়। তারেক রহমান নতুন স্বৈরাচার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তবে, আমরা এটা বিশ্বাস করি তারেক রহমান শেখ হাসিনার মত স্বৈরাচার হতে পারবে না। তার বহু আগেই এদেশের জনগণ রাজপথ প্রকম্পিত করবে এবং তারেক রহমানের এই স্বৈরাচারী প্রবণতাকে রুখে দেবে।’
ভিন্নমতের নাগরিকদের দমনের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে আমরা আপনাদের সামনে জানতে চাই মিরাজ শেখ কোথায়? পাঁচ মাস মিরাজ শেখের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। গাজী সালাউদ্দিন তানভীর হাসপাতালে ভর্তি। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি কি সন্ত্রাস করেছেন? গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিম বানানো কি সন্ত্রাস? কটূক্তি করা কি সন্ত্রাস?’
গণবিরোধী আইন পাসের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘গুম আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে যারা অভিযোগ করবে সেই অভিযোগ যদি কোনো কারণে ভুল প্রমাণিত হয়; তাহলে তাদেরকেই শাস্তি দেওয়া হবে কয়েক বছরের। ফলে এমন একটা বন্দোবস্ত করা হয়েছে যেখানে আর কেউই কোনো আসলে অভিযোগ দিতে যাবে না। বিএনপি আগে গুমের আন্তর্জাতিক তদন্ত চাইতো, জাতিসংঘের তদন্ত চাইতো। কারণ তারা বিরোধী দলে ছিল। আর এখন তারা এক বাহিনী গুম করলে অন্য বাহিনী দিয়ে তদন্ত করাতে চাচ্ছে। মানে গুমের কোনো বিচার হবে না। আমরা বলব অবিলম্বে এই আইনগুলো আপনারা সংশোধন করেন যাতে মানবাধিকার কমিশন নিরপেক্ষভাবে গুমের তদন্ত করতে পারে। সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনের নামে যাতে কোনভাবেই মত প্রকাশের অধিকারকে হরণ না করা হয় এটি নিশ্চিত করতে হবে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দুদককে নিয়ে নতুন কাণ্ড শুরু হয়েছে। সাত মাস পরে দুদক পুনর্গঠন না করে এনসিপিকে টার্গেট করেছেন। বিরোধী দলকে টার্গেট করছেন। যদি সাহস থাকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির অভিযোগগুলো আপনারা তদন্ত করুন। যে বারবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এদেশের রাস্তায় ইট পাথর থেকে আপনারা দুর্নীতি করেছেন এবং এখন মহিষ ঘাস খাবে সেখান থেকেও চাঁদাবাজি করছেন। ফলে দুর্নীতি কারা করে? বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও দেখেছে।’
সরকার জাতীয় সংসদকে কলুষিত করেছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই সরকারের কথা ছিল তারা মানবাধিকারের সুরক্ষা দিবে, কিন্তু সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করার বদলে পরিবর্তে তারা মানবাধিকার হরণ করা যায় এই ধরনের আইন এবং প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে। তাই আমরা এই সংসদের সামনে দাঁড়িয়েছি। জনগণের প্রতি সেই মেসেজটি নিয়ে আসতে যে আমরা যে গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম, আমরা যে লড়াই করেছিলাম দেশের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার জন্য, সেই গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার এখনো এই দেশে নিশ্চিত হয়নি।’
মানববন্ধনে এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





















