আন্তর্জাতিক

দলের নাম ও প্রতীক হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

  প্রতিনিধি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৫:১৮:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী পক্ষের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করে দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আজ শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ উপনির্বাচনে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাদের নির্বাচনী প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী পক্ষের নাম হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’। তাদের প্রতীক ‘খাম’।

এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচলিত নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং দলটির সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ সাময়িকভাবে স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুই পক্ষকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ কমিশনের কাছে তিনটি বিকল্প নাম ও দুটি প্রতীকের প্রস্তাব দিয়েছিল। নামগুলো ছিল—‘সর্বভারতীয় তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’। প্রতীক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’ ও ‘ক্রিকেট ব্যাট’। কমিশন তাদের প্রস্তাবিত প্রথম প্রতীকটিই অনুমোদন করেছে।

অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী পক্ষের পক্ষ থেকে তিনটি নাম প্রস্তাব করা হয়—‘জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’। প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছিল ‘খাম’, ‘ব্ল্যাকবোর্ড’ ও ‘টর্চ’। কমিশন তাদের দ্বিতীয় নাম এবং প্রথম প্রতীকটি নির্ধারণ করেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে দলীয় নাম নির্ধারণ করায় আপত্তি জানিয়েছে বিদ্রোহী পক্ষ। কমিশনের নির্দেশের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাদের দেওয়া নামের তালিকায় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ ছিল তৃতীয় পছন্দ। তবে প্রতীকের ক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দই দেওয়া হয়েছে।

ঋতব্রত বলেন, তাদের প্রথম পছন্দ ছিল ‘জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং দ্বিতীয় পছন্দ ছিল ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’। কমিশন জানিয়েছে, কোনো কারণে ওই দুটি নাম দেওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রতীকের ক্ষেত্রে তাদের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান করেন বলেও জানান তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম দলের নতুন নামের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন ঋতব্রত। তার বক্তব্য, তাদের দলের নামে কোনো ব্যক্তির নাম নেই। গণতন্ত্রকে গুরুত্ব দিয়ে তারা দল পরিচালনা করতে চান এবং এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মালিকানার দল নয়।

এদিকে কমিশনের সিদ্ধান্তের পর মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল খেলোয়াড়ের পোশাক পরা নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘খেলা হবে। মমতাদির নামটাই যথেষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেস তো তারই সৃষ্টি, তারই অধিকার।’

আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দুই আসনের জন্য বিভিন্ন পক্ষ ইতোমধ্যে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তবে তৃণমূলের দুই পক্ষ কোন নাম ও প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবে, তা নিয়ে এত দিন অনিশ্চয়তা ছিল। নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশের ফলে সেই অনিশ্চয়তার অবসান হলো।

তবে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে তৃণমূলের মূল নাম ও প্রতীক নিয়ে স্থায়ী নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দলীয় নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের অধিকার নিয়ে কমিশনের প্রক্রিয়া আলাদাভাবে চলমান রয়েছে। আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়ার মধ্য দিয়ে আপাতত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content