প্রতিনিধি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২:৪৪:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ
সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে এই পরিবর্তনকে ঘিরে মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত এফ-৩৫ কেনার চেষ্টা করে আসছে। অত্যাধুনিক গোপনীয় প্রযুক্তি বা ‘স্টেলথ’ সক্ষমতার কারণে এসব বিমান শত্রুর রাডারে শনাক্ত হওয়া এড়িয়ে চলতে পারে।
তবে এতদিন সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহী ছিল ওয়াশিংটন। এর অন্যতম কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলও এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। মার্কিন আইনে আঞ্চলিক অন্য দেশগুলোর তুলনায় ইসরায়েলকে সর্বাধুনিক মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২৪ বিলিয়ন ডলারের এই অস্ত্রচুক্তি পর্যালোচনা বা আটকে দেওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের হাতে ৩০ দিন সময় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা সৌদি আরবের সঙ্গে এই চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়ার কথা রয়েছে। বিমানগুলো তৈরি করে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।
ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তি বৃহস্পতিবার চুক্তিটির বিরোধিতা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এর মাধ্যমে ‘আমেরিকার সামরিক প্রযুক্তির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নাগালের মধ্যে চলে আসতে পারে’।
আরও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, সৌদি আরব দুই দেশের নিরাপত্তা অংশীদারত্বের আওতায় চীনের সঙ্গে এফ-৩৫-এর সংবেদনশীল প্রযুক্তি ভাগ করে নিতে পারে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চুক্তিটির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। দপ্তরের মতে, চুক্তির মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান ন্যাটোভুক্ত নয় এমন মিত্রের নিরাপত্তা জোরদার হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তর আরও বলেছে, প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি ও সংশ্লিষ্ট সহায়তা আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনবে না।
ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে তিনি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে গত বছরের মে মাসে রিয়াদে দুই নেতার বৈঠকের সময় সৌদি আরবের সঙ্গে ১৪২ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্রচুক্তি হয়। হোয়াইট হাউস ওই চুক্তিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বিক্রয় চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
প্রস্তাবিত নতুন চুক্তি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরবের হাতে থাকা এফ-৩৫-এর সংখ্যা ইসরায়েলের বর্তমান বহরের কাছাকাছি পৌঁছাবে। ইসরায়েলের কাছে বর্তমানে ৫০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে। তবে গত মে মাসে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও একটি এফ-৩৫ স্কোয়াড্রন কেনার ঘোষণা দেয়। জেরুজালেম পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইসরায়েলের এফ-৩৫ বহরের সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছাবে।
লকহিড মার্টিনের একটি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানের দাম প্রায় ৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার।
সৌদি আরবের সঙ্গে মার্কিন অস্ত্রচুক্তি নিয়ে এর আগেও কংগ্রেসে বিতর্ক হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার পর রিয়াদের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতারা প্রশ্ন তুলেছিলেন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনও একসময় সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে শর্ত ছিল, সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। শেষ পর্যন্ত সেই কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হয়নি।
এদিকে নতুন প্রস্তাবিত অস্ত্রচুক্তির সময়ে সৌদি আরব ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িত। হুথিরা পশ্চিম ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং সম্প্রতি সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে দুই সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের ওপর হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন।





















