প্রতিনিধি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২:৪৪:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতের মণিপুর রাজ্যের কামজং জেলায় মিয়ানমার সীমান্তের কাছ থেকে টাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের চার ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীরা তাদের গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ভারতীয় বার্তাসংস্থা টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
নিহতরা হলেন ভারেইশিম জাজো, ফামি জাজো, বেটারসন জাজো ও নিংথেম কাশাক। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে দুর্গম পিলং গ্রামের কাছে একটি নির্জন স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। মরদেহগুলোতে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মরদেহগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কামজং জেলা হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জেলা সদর থেকে পিলং গ্রামের দূরত্ব প্রায় ৩৪ কিলোমিটার।
স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ভারতে প্রবেশ করে পাঁচ গ্রামবাসীর একটি দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় চারজন নিহত হন। দলের একজন হামলা থেকে পালিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এরপর নিখোঁজ চারজনের সন্ধানে অভিযান শুরু করা হয়।
তবে হামলার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, স্থানীয়রা চারজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে একটি পুলিশ দল পাঠানো হয়েছে।
নাগা পিপলস ফ্রন্টের রাজ্য সভাপতি আওয়াংবৌ নিউমাই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। হামলার পেছনে কুকি ন্যাশনাল আর্মি (বার্মা) জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সব সম্প্রদায়ের প্রতি সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন।
মণিপুরে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই সর্বশেষ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। ফেব্রুয়ারি থেকে উখরুল, কামজং, কাংপোকপি, তামেংলং ও নোনি জেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ, অতর্কিত হামলা ও গ্রাম লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। ১৩ সেপ্টেম্বর তামেংলং ও নোনিতে পৃথক হামলায় চার কুকি গ্রামবাসী নিহত হন। এরপর নাগা বসতিতেও হামলা এবং এক নাগা কিশোর হত্যার ঘটনা ঘটে। ২৩ সেপ্টেম্বর কাংপোকপির আইটি রোড করিডরের কুকি বসতিতে হামলায় ৩৬ বছর বয়সী এক কুকি বিদ্যুৎকর্মী নিহত হন। একই দিনে নোনি-কাংপোকপি-সেনাপতি সীমান্তবর্তী নাগা গ্রামগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া যায়।
রাজ্যে সেনাবাহিনী, আসাম রাইফেলস, সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবি সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও পৃথক ঘটনাগুলোর দায় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ রয়েছে এবং অনেক ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।









