প্রতিনিধি ৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২:১১:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ
জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান এবার নোটিশ ও উচ্ছেদের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার কাশ্মীর থেকে ১৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। কাশ্মীর থেকে এত বড় পরিসরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে দ্য প্রিন্ট জানায়, কাশ্মীরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা এসব ব্যক্তিকে নিবন্ধনের জন্য আধার কার্ড দেখাতে বলা হয়েছিল। পরে তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাদের বিবরণ বাংলাদেশে পাঠানো হয় এবং তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং ভারতের ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়েছে।
ফেরত পাঠানোর আগে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে করে পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও বাগডোগরা এই দুই ট্রানজিট পয়েন্টের একটিতে নেওয়া হয়। বাগডোগরায় তাদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের শারীরিকভাবে সীমান্ত পার করে দেন।
এই ফেরত পাঠানোর ঘটনা ঘটল কেন্দ্রীয় সরকারের গঠিত জনসংখ্যাগত পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটির (এইচএলসিডিসি) জম্মু-কাশ্মীর সফরের কয়েক মাস পর। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভালকরকে প্রধান করে গঠিত চার সদস্যের এই কমিটি অবৈধ অভিবাসনসহ জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
গত বছর ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘হাই-পাওয়ার্ড ডেমোগ্রাফি মিশন’ গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর কেন্দ্র এই কমিটি গঠন করে। কমিটি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর আগে জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে।
এরপর ১০ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত কমিটি জম্মু অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে। তারা নারওয়ালের কারিয়ানি তালাবে রোহিঙ্গা বসতিও পরিদর্শন করে।
কমিটির হিসাবে, জম্মু-কাশ্মীরে মোট ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিকের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪৬ জন জম্মু অঞ্চলে এবং বাকি ৪৫৮ জন কাশ্মীর উপত্যকায় অবস্থান করছেন।





















