সাকিব চৌধুরী , রংপুর ১১ আগস্ট ২০২৬ , ৩:১৩:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভালো করেছে রংপুর মহানগরীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দুটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এ ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৯০ শতাংশের ওপরে।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের তথ্যে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর ক্যাডেট কলেজ ও বিআইএএম ল্যাবরেটরি স্কুলের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির ৫৩০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২৯ জন।
পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। ৫৬৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২২ জন। সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৯৮ দশমিক ১৪ শতাংশ; ২৬৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৭ জন।
রংপুর জেলা স্কুলে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির ২১৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫০ জন। মিলিনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯৭ দশমিক ১২ শতাংশ। ১০১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২ জন।
এ ছাড়া বর্ডারগার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। ১৩৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪ জন। লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ; ২৫২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ জন। কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২৪৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮০ জন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দিন জানান, এবার রংপুর বিভাগের আট জেলার ২ হাজার ৮১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাঁদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। বিভাগের ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস এবং ১৮টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিন হাফিজ বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়াটা তাঁর কাছে বিশেষ অনুভূতির। এবারের পরিস্থিতি সহজ ছিল না বলেও জানান তিনি।
একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তাওহিদ মোস্তার তাজিন বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁরা ভালো ফল করতে পেরেছেন।
রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার উপাধ্যক্ষ আব্দুল মোস্তালিব বলেন, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নির্দেশনা মেনে চলার কারণেই ভালো ফলাফল সম্ভব হয়েছে। নির্বাচনী পরীক্ষার পর পরীক্ষার পাঁচ দিন আগ পর্যন্ত মডেল টেস্ট নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী আশরাফী বলেন, গতবারের তুলনায় এবার তাঁদের ফল ভালো হয়েছে। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার পর প্রি-টেস্টের আগে বাড়তি পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার মধ্যে রাখার কারণে এ সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন তিনি।





















