প্রতিনিধি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৯:৪৭:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে আর্থিক প্রতারণা চক্রের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শনিবার দুপুর ১২টায় এসআরবি-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ থানার বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. সোহেল মন্ডল (২৭) এবং মো. হেলাল ইসলাম (২২)। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি জানায়, গত ২০ জুলাই দুপুরে নাটোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত মো. আমিনুল ইসলামকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একটি কলের মাধ্যমে জানানো হয় তার ছোট ছেলে তামিম আল মাহী কয়েকজন বন্ধুসহ মাদক নিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে আমিনুল ইসলামের ছেলের কন্ঠে কথা বলে তার বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারকচক্র। প্রতারকরা জানায় তার ছেলেকে ছাড়াতে হলে তাদেরকে টাকা দিতে হবে। পরে তাদের চাহিদা মোতাবেক আমিনুল ইসলাম দুইবারে মোট ৪০ হাজার টাকা নগদের মাধ্যমে প্রদান করে। টাকা প্রদানের পরে তিনি তার ছেলের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। তিনি অজ্ঞাত প্রতারক কর্তৃক প্রতারণার শিকার হয়ে প্রতারণা সংক্রান্তে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে থাকেন। এই ঘটনায় প্রতারিত মো. আমিনুল ইসলাম নিজে বাদী হয়ে গতকাল নাটোর সদর থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন।
মামলা পেয়ে প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম শুরু করে সন্ধ্যা সাতটার দিকে সিপিসি-৩, এসআরবি-১৩, গাইবান্ধার একটি আভিযানিক দল গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানাধীন দরবস্ত ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা মো. সোহেল মন্ডল ও মো. হেলাল ইসলামকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৯টি মোবাইল ফোন, একটি পাসপোর্ট এবং নগদ ১৪ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা এ ধরণের প্রতারণার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এসআরবি-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, প্রতারণা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’





















