নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৪:২২:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর বনানী থানাধীন মহাখালী ওয়্যারলেস গেট, টিএন্ডটি স্কুল রোড ও বেলতলা এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধ দোকানপাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) একাধিক উচ্ছেদ অভিযানের পরও কিছু সময়ের মধ্যেই আবার দোকান বসায় পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়্যারলেস গেট মোড় থেকে টিএন্ডটি স্কুল রোড পর্যন্ত ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কের একটি অংশজুড়ে অস্থায়ী দোকান ও ফলের পসরা বসেছে। স্কুল রোডে সবজি বিক্রেতাদের ভ্যানগাড়ি ও বিভিন্ন দোকানের কারণে অনেক স্থানে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সম্প্রতি মহাখালী টিএন্ডটি মাঠসংলগ্ন এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের একটি ময়লার ট্রাকের ধাক্কায় এক নারী পথচারী নিহত হন। স্থানীয়দের দাবি, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের সড়কে নেমে চলাচল করতে হয়। তবে ওই দুর্ঘটনার সঙ্গে ফুটপাত দখলের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়।
এদিকে ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ওয়্যারলেস গেট মোড়ে পথচারীদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের নির্মিত বিশ্রামাগারের জায়গাতেও চা ও সিগারেটের দোকান বসানোর অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফুটপাত ও সড়কের বিভিন্ন অংশে দোকান বসানোর বিনিময়ে দৈনিক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। তাদের অভিযোগে ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওলি উল্লাহ মিয়া সায়েম, ‘জ’ ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক নেতা নাসিরের নাম উঠে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওলি উল্লাহ মিয়া সায়েম। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বনানী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাচ্চু বলেন, দলীয় পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িত থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উচ্ছেদের পর পুনরায় দোকান বসানো ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। ওই এলাকায় শিগগিরই যৌথ অভিযান চালানোর কথা জানান তিনি।
বনানী থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন বলেন, ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়ে পুলিশের কঠোর অবস্থান রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, ফুটপাত পুনর্দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও স্থায়ী তদারকি ব্যবস্থা প্রয়োজন। এতে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।















