আইন-আদালত

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আখতারুজ্জামান রিমান্ডে

  প্রতিনিধি ৩ অক্টোবর ২০২৬ , ২:৩২:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়।

এ মামলায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

আখতারুজ্জামানকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আজ আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম। আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন আদালত।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ (বিজি-৩৩৮) থেকে যাত্রীরা নামার পর ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এ সময় ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে পরিস্থিতি দেখতে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান। ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’ বলে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে প্রকাশ্যে হুমকি দেন তিনি।

আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ সংসদের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নৌকার প্রার্থীর কাছে হেরে যান। এরপর ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি।

তিনি একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

আরও খবর

Sponsered content