মো: গোলাম কিবরিয়া , রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি ১৫ নভেম্বর ২০২৫ , ১:০০:১১ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহীর ডাবতলা এলাকায় বিচারক আব্দুর রহমানের একমাত্র ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৬) হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমান নিজে বাদী হয়ে এজাহারে স্বাক্ষর করেন। পরে তিনি ছেলের মৃতদেহ নিয়ে জামালপুরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাজপাড়া থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গাজিউর রহমান বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, মামলার একমাত্র আসামি লিমন মিয়া (৩৪) বর্তমানে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া ভবানীগঞ্জ গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য লিমন মিয়া ২০১৮ সালে চাকরি হারান। পুলিশের তথ্যমতে, বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসীর (৪৪) সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল এবং তিনি লুসীর কাছ থেকে টাকা নিতেন। টাকা দেওয়া বন্ধ করলে লিমন ব্ল্যাকমেইল ও হুমকি দিতে শুরু করেন। এ নিয়ে গত ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় লুসী একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় ডাবতলার ভাড়া বাসায় গিয়ে লিমন তাওসিফকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। হামলায় তাসমিন নাহার আহত হন। ধস্তাধস্তির সময় লিমনও আহত হয়। তিনজনকেই উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাওসিফকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার সকালে রামেক মর্গে ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কফিল উদ্দিন ও প্রভাষক শারমিন সোবহান কাবেরী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। এসময় মর্গে এসে ছেলের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিচারক আব্দুর রহমান।
ময়নাতদন্তের পর কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানাজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন এবং ফ্রিজিং অ্যাম্বুল্যান্সে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাওসিফ রাজশাহী গভ. ল্যাবরেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।














