সারাদেশ

তিন সন্তানের মুখে হাসি, অসুস্থ মায়ের চোখে অনিশ্চয়তা

  মো. কামরুল হাসান কাজল, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৫:৩৮:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন কল্পনা বেগম (২৫) নামে এক প্রসূতি। তিন সন্তান জন্ম দেওয়ার আনন্দের মধ্যেও নিজের অসুস্থতা ও আর্থিক অসচ্ছলতায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।

কল্পনা বেগম নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ এলাকার জায়দুল হকের স্ত্রী। তাঁর স্বামী বাক্‌প্রতিবন্ধী এবং আন্ধারীঝাড় বাজারের একটি হোটেলে শ্রমিকের কাজ করেন। বর্তমানে কল্পনা তিন সন্তানকে নিয়ে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামে দিনমজুর বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিন সন্তানের জন্ম দেন কল্পনা। তাদের নাম রাখা হয়েছে হাসান, হোসাইন ও বেল্লাল। জন্মের সময় হাসানের ওজন ছিল ২ কেজি এবং হোসাইন ও বেল্লালের ওজন ছিল ১ কেজি ৯০০ গ্রাম করে। তিন শিশুর বয়স এক মাস পেরিয়েছে।

তিন সন্তান সুস্থ থাকলেও অপারেশনের স্থানে ইনফেকশন হওয়ায় প্রায় এক মাস ধরে অসুস্থ কল্পনা। একদিকে নিজের চিকিৎসা, অন্যদিকে তিন নবজাতকের খাবার ও প্রয়োজনীয় খরচ জোগাতে গিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির।

কল্পনা বেগম জানান, বর্তমানে তাঁর প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার ওষুধ প্রয়োজন। তিন নবজাতকের জন্য প্রতিদিন দুই প্যাকেট দুধ কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৬০০ টাকা। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী একজন বাক্‌প্রতিবন্ধী। তিনি আন্ধারীঝাড় বাজারের একটি হোটেলে শ্রমিকের কাজ করেন। নিজের চিকিৎসা ও তিন সন্তানের খাবারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সন্তানদের জন্য সরকারি বা অন্য কোনো সহযোগিতা পেলে আমি খুশি হব।’

কল্পনার বাবা আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা গরিব ও অসহায়। সন্তান তিনটির জীবন রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবান ও দানশীল মানুষের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’

ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (চলতি দায়িত্ব) আব্দুল লতিফ বলেন, কল্পনা বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তাঁকে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদন করলে একটি ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর স্বামী যেহেতু নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা, তাই তাঁর প্রতিবন্ধী কার্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলা হবে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার তাদের ডাকা হয়েছে। তখন আরও কিছু সহায়তা দেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content