প্রতিনিধি ৩ অক্টোবর ২০২৬ , ২:১৭:২২ প্রিন্ট সংস্করণ
ফুটপাত যেখানে দখল হবে, সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। এ সময় নগর সেবা নিশ্চিত করা এবং নগরবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য সিটি করপোরেশনের কাউকে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত উচ্ছেদ করতে কাউকে জানাতে হবে কি না, এমন কোনো আইন বা বিধি থাকলে তা তাকে দেখাতে হবে।
ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও হকারের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি মিরপুর-১০ থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘদিনের দখলে থাকা ফুটপাত স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দখলমুক্ত করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফার্মগেটসহ যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকাতেও অভিযান চালানো হবে।
ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি নিজেই বিএনপির একজন কর্মী এবং দলের সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ফুটপাত উচ্ছেদ করতে কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।
‘কিছু কুচক্রী মহল আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়’ উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, সেই ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেখেছেন কয়েক দিন আগে মিরপুর ১ নম্বর রাউন্ডের একটা ঘটনা ছিল। প্রধানমন্ত্রী কি অ্যাকশনে গিয়েছেন কি না? দলের ভেতরে-বাইরে যারাই দুষ্কৃতকারী আছে, তাদের কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে একটি মনিটরিং টিম গঠন করেছে ডিএনসিসি। আজ দুপুরে ডিএনসিসির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জনাব শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নির্দেশে মিরপুর-১০ নম্বরে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। মনিটরিং টিম নিয়মিতভাবে এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে। ফুটপাত দখল করে কোনো দোকান বা স্থাপনা বসানো হলে সংশ্লিষ্ট মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান সম্পর্কে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরকে ক্লিন ও গ্রিন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে গত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, পরিচ্ছন্ন জায়গায় এডিস মশার প্রজননের সুযোগ থাকে না। তাই নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি ভবন ও পরিত্যক্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় ৮০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে চান তারা।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন অভিযান চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৯০ দিনের কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রতিদিন উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় তিন ধরনের লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।





















