সারাদেশ

ফল বিক্রেতার মোবাইল চুরির অভিযোগে এসআই ক্লোজড

  প্রতিনিধি ১১ আগস্ট ২০২৬ , ২:৫২:১০ প্রিন্ট সংস্করণ

এসআই রাসেল মিয়া। ছবি : সংগৃহীত

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ফল বিক্রেতার মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়াকে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) তাকে আজমিরীগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন।

শনিবার রাতে আজমিরীগঞ্জ বাজারের রাজিব আহমেদের ফলের দোকানে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে এসআই রাসেল মিয়াকে দোকানে প্রবেশ করে পেয়ারা ও লটকন কিনতে দেখা যায়।

ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টা ৪৯ মিনিটের দিকে এসআই রাসেল দোকানে প্রবেশ করেন। এ সময় দোকানের টেবিলের ওপর রাজিবের কালো রঙের একটি স্মার্টফোন রাখা ছিল। রাসেল কিছু ফল কেনার পরও কয়েক মিনিট দোকানে অবস্থান করে দোকানির সঙ্গে কথা বলতে থাকেন।

একপর্যায়ে ফলের ব্যাগ তৈরি করে রাখার পরও তিনি দাঁড়িয়ে থেকে দোকানির সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। এ সময় হাতে থাকা একটি ফাইল ও নিজের মোবাইল ফোন দোকানির মোবাইলের ওপর রাখেন। পরে কথা বলতে বলতেই দুটি ফোনই নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নেন বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। এরপর ফলের ব্যাগ হাতে নিয়ে আরও কিছুক্ষণ দোকানে অবস্থান করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান তিনি।

রাজিবের দাবি, ঘটনার কিছুক্ষণ পর নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে তিনি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। এতে এসআই রাসেলের গতিবিধি দেখতে পান। পরে তাঁর কাছে মোবাইল ফোনটি ফেরত চান রাজিব।

রাজিবের ভাষ্য, রাসেল প্রথমে মোবাইল নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানানো হলে গভীর রাতে মোবাইল ফোনটি ফেরত না দিয়ে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে এসআই রাসেলের গতিবিধি দেখে তাঁদের কাছে মনে হয়েছে, তিনি কিছু সময় পরিকল্পিতভাবে দোকানে অবস্থান করে পরে মোবাইলটি নিয়ে গেছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে এসআই রাসেল মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি আকবর হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর গতকাল সোমবার তাঁকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।’

এদিকে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদকে আজমিরীগঞ্জ থানায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ থানার ভেতরে অবস্থান করার পর তিনি বেরিয়ে যান। তবে তাঁর আজমিরীগঞ্জ সফরের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এসআই রাসেলের কর্মকাণ্ড নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অসন্তুষ্ট। গত ছয় মাসে একাধিক স্থানে তাঁর বদলি হয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট একটি অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের ঘটনায় যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে না পারায় রাজধানীর সাভার থানা থেকে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

আরও খবর

Sponsered content