গাইবান্ধা প্রতিনিধি ১১ আগস্ট ২০২৬ , ২:৫৫:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ
গাইবান্ধায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্য ও ব্যর্থতার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। জেলার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করলেও দুটি বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই কৃতকার্য হতে পারেননি। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে বলে জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঘাগোয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এসকেএস নতুন কুঁড়ি বিদ্যাপীঠ, আমেনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বারিদ মাল্টিমিডিয়া স্কুল, সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতন মডেল হাইস্কুলের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন।
পাসের হারে জেলার শীর্ষে রয়েছে আহম্মদউদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৯৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪৫ জন। এরপর রয়েছে গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়; প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং এসকেএস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৯২ দশমিক ৮০ শতাংশ।
অন্যদিকে, জেলার মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেননি।
পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁরা সবাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী এবং তিনজনই অকৃতকার্য হয়েছেন। অন্যদিকে সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তাঁদের কেউ পাস করতে পারেননি।
শতভাগ অকৃতকার্যের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘এমপিওভুক্ত কোনো বিদ্যালয় থেকে এমন ফলাফল কাম্য নয়।’ কেন দুটি বিদ্যালয়ে এমন ফলাফল হয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের ফলাফলে এমন বিপর্যয় এর আগে কখনো হয়নি। তিন শিক্ষার্থীই গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক ফারুক খালেকের দীর্ঘদিনের অসুস্থতাও এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০০৫ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। একজন প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১১ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন।
জেলা শিক্ষা অফিসের হিসাব অনুযায়ী, এবার গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ৬৬টি কেন্দ্রে মোট ৩২ হাজার ৮৩৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় ৪০টি কেন্দ্রে ২৫ হাজার ২২১ জন, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) মিলিয়ে ১৫টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ১ জন এবং দাখিল পরীক্ষায় ১১টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৬১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
এসএসসি শাখায় ১৪ হাজার ৯৮০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন; পাসের হার ৫৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। এসএসসি ভোকেশনালে ১ হাজার ৩৬৫ জন পাস করেছেন; পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। দাখিল ভোকেশনালে ৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন; পাসের হার ৩০ দশমিক ২৭ শতাংশ। দাখিল শাখায় ২ হাজার ৪০৪ জন পাস করেছেন; পাসের হার ৪৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
জেলায় একদিকে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ সাফল্য যেমন আশাব্যঞ্জক চিত্র তুলে ধরেছে, অন্যদিকে দুটি বিদ্যালয়ের শতভাগ অকৃতকার্যতার ঘটনা শিক্ষার মান, শিক্ষক সংকট ও প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জেলা শিক্ষা অফিসের তদন্তের পরই দুটি বিদ্যালয়ের এমন ফলাফলের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।





















