রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ৭ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৩২:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে নবনির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো মসজিদটির নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কার্যক্রম। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে।

দুপুরের পর থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা মসজিদে আসতে শুরু করেন। খুতবা শুরুর আগেই মূল নামাজের কক্ষ, বারান্দা ও উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। পরে মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মাহবুব আলম জুমার নামাজে ইমামতি করেন।
জুমার নামাজের আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম, রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল্লামা আল ওয়াদুদ বিন নূর আলিফ, জামায়াতের নায়েবে আমীর মিজানুর রহমান মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান আলী এবং সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী।
বক্তারা বলেন, মডেল মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং ইসলামী শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ কেন্দ্র থেকে কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা সমাজে আরও বিস্তৃত হবে এবং নতুন প্রজন্ম ইসলামের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম. আর. বকুল মজুমদার, সাবেক মেয়র আলমগীর সরকার, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আকতারুল ইসলাম আক্তার, পৌর যুবদলের সভাপতি ফারুক হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার ফরহাদুজ্জামান ফরহাদ, মডেল মসজিদের কেয়ারটেকার আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সুধীজন।
রাণীশংকৈল পৌর শহরের হ্যালিপ্যাড মাঠসংলগ্ন এলাকায় নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক অজুখানা, প্রায় এক হাজার মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া কমপ্লেক্সটিতে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, লাইব্রেরি, হজযাত্রী নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইমাম প্রশিক্ষণ সুবিধা, হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, ইসলামী বই বিক্রয় কেন্দ্র, অতিথিশালা, মৃতদেহ গোসলের নির্ধারিত স্থান, প্রশাসনিক কার্যালয় এবং গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মডেল মসজিদটি শুধু ইবাদতের স্থান হিসেবেই নয়, ইসলামী শিক্ষা, নৈতিক চরিত্র গঠন ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





















