প্রতিনিধি ৬ আগস্ট ২০২৬ , ১:০০:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে বিজয়ী আবদুল এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সামরিক সহায়তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলসহ বিশ্বের কোনো দেশকেই নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা দেওয়া উচিত নয়।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ বলেন, ‘আমি কোনো দেশের জন্যই নিঃশর্ত সামরিক সহায়তার পক্ষে নই। এর মধ্যে ইসরায়েল যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে মিসর, যেখানে আমার পরিবারের শিকড়; পাশাপাশি পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে।’
৪১ বছর বয়সী এই চিকিৎসক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান। তার ভাষায়, ‘আমার অঙ্গরাজ্যের এমন অনেক এলাকা রয়েছে, যেখানে মানুষের গড় আয় মাত্র ১৪ হাজার ডলার। আমি বিশ্বাস করি, করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে তাদের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।’
এল-সায়েদ আরও বলেন, তিনি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পক্ষে। তার মতে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত দেশগুলোর কাছে অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লিহি আইন রয়েছে এবং সেই নীতিই অনুসরণ করা উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমি এমন কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীকে অর্থায়ন করতে চাই না, যারা গণহত্যা, বর্ণবৈষম্য বা এমন কোনো যুদ্ধে জড়িত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইহুদি ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয় জনগণেরই শান্তি, মর্যাদা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের সমান অধিকার রয়েছে।’
মার্কিন সিনেটর পদে নির্বাচনের জন্য বুধবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারিতে এল-সায়েদ প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। নির্বাচনী প্রচারে স্টিভেন্সের পক্ষে ইসরায়েলপন্থী আইপ্যাকমোট ৬০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে আবদুল এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হবেন।





















