আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ আফ্রিকায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার

  প্রতিনিধি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১:৪৭:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যিক রাজধানী জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে শহরটির আশপাশে উদ্ধার হওয়া নারীদের মরদেহের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১-তে।

রোববার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে একুরহুলেনি পৌরসভার একটি খোলা মাঠে সর্বশেষ মরদেহটি পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় টহলরত একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের গাড়ির কর্মীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিদিলি বলেন, নিহত নারীর পরিচয়, বয়স ও মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

এর এক দিন আগে শনিবার একই পৌরসভার একটি কবরস্থানের কাছে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান টমি মথোমবেনি জানান, প্রাথমিকভাবে ওই নারীকে পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে নারীদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।

একুরহুলেনিতে একের পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। হত্যাকাণ্ডগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে একই ব্যক্তি বা একটি দল এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান মথোমবেনি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএবিসিকে বলেন, কিছু হত্যাকাণ্ডের মধ্যে মিল পাওয়া গেছে। তবে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো নেই। ১৭ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া নবম নারীর মরদেহের ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছে তদন্তকারীরা।

ওই নবম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পর্কসংক্রান্ত বিষয় থাকতে পারে।

গত জুলাই ও আগস্টে একুরহুলেনির ছয় কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একই এলাকায় আরও ছয় নারীর মরদেহ পাওয়া যায়।

শনিবারের ঘটনার আগে উদ্ধার হওয়া সব নারীর বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। তাদের কয়েকজনের মরদেহ সম্পূর্ণ বা আংশিক বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া যায়।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি উদ্ধার হওয়া প্রথম মরদেহটি ছিল এক নারীর। তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় বৈদ্যুতিক তারের বন্ধনী দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ওই নারীর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নারী হত্যার হার বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনাত অনেক বেশি। দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন ১৫ জন নারী হত্যার শিকার হন বলে পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা শনিবার দশম নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণার সময় তিনি বলেন, দেশের নারীদের হত্যা অব্যাহত থাকায় তিনি গভীরভাবে দুঃখিত এবং বিষয়টি দক্ষিণ আফ্রিকার পুরুষদের জন্য লজ্জাজনক।

ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে নতুন করে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ। তবে ১১টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কতগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আরও খবর

Sponsered content