প্রতিনিধি ১৫ জুলাই ২০২৬ , ১০:০২:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি মঙ্গলবার আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে কয়েক সপ্তাহ আগেও যে সমঝোতাকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, তা কার্যত ভেঙে পড়ল।
ঘারিবাবাদির ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটেই তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তাসনিম নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে ইরান তার সার্বভৌম অধিকার যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবে। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
যুদ্ধবিরতি থেকে সমঝোতা
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত টানা ৪০ দিন চলার পর ৭ এপ্রিল উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন ইসলামাবাদে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
১৪ দফার ওই সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ রাখবে ইরান। এর বিনিময়ে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত
তবে ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ওই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। এর জবাবে ৭ জুলাই থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেন। একই দিন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এর বিনিময়ে ওই নৌপথ ব্যবহারকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ২০ শতাংশ হারে টোল দিতে হবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার মাত্র একদিনের মাথায় ইসলামাবাদ সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায় ইরান।
উত্তেজনা আরও বাড়ছে
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ পুনর্বহালের পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা বেড়েছে।
সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ সমঝোতা ভেঙে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক আবারও অনিশ্চয়তার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।















