আন্তর্জাতিক

গাজায় ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুহত্যার অভিযোগ জাতিসংঘের

  প্রতিনিধি ২৪ জুন ২০২৬ , ১:১১:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েল বিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ইসরায়েল গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। এ ঘটনাকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক এ তদন্ত কমিশন জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজায় নিহতদের প্রায় ত্রিশ শতাংশই শিশু। কমিশনের মতে, নবজাতক ও মাতৃত্বসেবা কেন্দ্রগুলোতে হামলার ফলে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে গর্ভপাত, জন্মগত ত্রুটি এবং নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে।

এছাড়া গাজায় মানবিক সহায়তা অবরোধের কারণে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টিজনিত মৃত্যু, রোগবালাই বৃদ্ধি এবং টিকাদানের হার কমে যাওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশনের প্রধান শ্রীনিবাসন মুরালিধর জানান, প্রমাণগুলো ইঙ্গিত দেয় যে ফিলিস্তিনি শিশুদের ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির পরও শিশুদের হত্যা ও গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরেও শিশুদের সুরক্ষার প্রতি অবহেলা করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান দেখানো হচ্ছে না।

জাতিসংঘের এই কমিশন ২০২১ সালের মে মাসে গঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত এবং সংঘাতের মূল কারণ অনুসন্ধান।

কমিশনের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার যথেষ্ট যুক্তিসংগত প্রমাণ রয়েছে। সেখানে গণহত্যা সংক্রান্ত পাঁচটির মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে হত্যা, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, একটি জনগোষ্ঠী ধ্বংসের উদ্দেশ্যে কঠোর জীবনযাপন পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং প্রজনন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন অন্তত একটি শিশু নিহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ আরও সতর্ক করেছে যে মানবিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় শিশুরা ক্রমশ আরও অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিশুদের আটক করে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে, যা ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নথিতেও উঠে এসেছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরেও এতিমখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ফলে শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটগুলোর পরিচয় শনাক্ত করেছে যারা শিশুদের ওপর হামলার জন্য দায়ী বলে অভিযোগ রয়েছে এবং এই সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

ইসরায়েলের জেনেভা মিশন এই প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করে এটিকে মানহানিকর বলে উল্লেখ করেছে এবং দাবি করেছে, এতে হামাসের সহিংস কর্মকাণ্ড উপেক্ষা করা হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content