প্রতিনিধি ২৪ জুন ২০২৬ , ১১:১৩:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঝপথে পানি পান ও বিশ্রামের জন্য দেওয়া বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেছেন, এই বিরতি সম্পূর্ণভাবে খেলাধুলাসংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতেও হাইড্রেশন ব্রেক চালু রাখতে পারে ফিফা।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে তীব্র গরমের কারণে খেলোয়াড়দের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে প্রতিটি অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে তিন মিনিটের বিরতি চালু করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলোয়াড়, কোচ এবং সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু স্টেডিয়ামে বিরতির সংকেত দেওয়ার সময় দর্শকদের একাংশ অসন্তোষও প্রকাশ করেছে।
কিছু দেশে টেলিভিশন সম্প্রচারের সময় এই বিরতির ফাঁকে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলেও সব দেশে এমনটি হচ্ছে না। এ কারণে অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে এই বিরতি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে।
তবে ইনফান্তিনো স্পষ্টভাবে বলেছেন, ফিফার সব বাণিজ্যিক চুক্তি অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এই বিরতির সঙ্গে অতিরিক্ত আয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি আরও বলেছেন, চলতি বিশ্বকাপে খেলার মধ্যে অতিরিক্ত বিরতি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও ভবিষ্যতের বিশ্বকাপগুলোতেও হাইড্রেশন বিরতি চালু রাখার বিষয়টি ফিফা বিবেচনা করবে।
তিনি জানান, এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে কী করা হবে, তা ফিফা বিশ্লেষণ করবে।
তিনি বলেন, ‘হয়তো কোচরা কিছু পরিস্থিতি নতুন করে মূল্যায়ন করতে পারেন, কিছু ভুল সংশোধন করতে পারেন। খেলোয়াড়রা সামান্য বিশ্রাম পায় এবং আবার পূর্ণ গতিতে খেলায় ফিরতে পারে। এটা কি খারাপ? হয়তো ভালোও হতে পারে।’
অনেক ম্যাচ অপেক্ষাকৃত শীতল আবহাওয়ায় কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছাদযুক্ত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হলেও সব ম্যাচে একই নিয়ম প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ফিফা। ইনফান্তিনোর মতে, সব দলের জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করতেই প্রতিটি ম্যাচে এই বিরতি রাখা হয়েছে।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘একটি বিশ্বকাপ ৩৯ দিনের দীর্ঘ প্রতিযোগিতা। কোনো দলকে এই সময়ের মধ্যে আটটি ম্যাচ পর্যন্ত খেলতে হতে পারে। তাই খেলোয়াড়দের বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বকাপে ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের মধ্যে অসাধারণ উদ্দীপনা ছিল। এ ধরনের টুর্নামেন্টে আমরা আগে কখনো ৯০ মিনিটজুড়ে এত উচ্চ উদ্দীপনাপূর্ণ খেলা দেখিনি। ম্যাচের শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত খেলোয়াড়রা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। হয়তো, নিশ্চিতভাবে না হলেও, এই ছোট বিরতিগুলো খেলোয়াড়দের নতুন উদ্যমে মাঠে ফিরে নিজেদের সেরাটা দেখাতে সাহায্য করছে।’
বিনোদনের দিক থেকে এবারের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই অনেকাংশে সফল। গোল হচ্ছে রেকর্ড গতিতে, আর লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, আর্লিং হালান্ডের মতো তারকারা দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন।
এছাড়া প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কুরাসাও, কেপ ভার্দেও মত দলগুলো চমক দেখিয়েছে। টুর্নামেন্ট ৩২ দল থেকে ৪৮ দলে সম্প্রসারণের ফলে মান কমে যাবে এমন আাশঙ্কাও অনেকাংশে নেই বলে দাবি করেছে।




















