প্রতিনিধি ১৬ আগস্ট ২০২৬ , ১:০৭:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন ‘লালা’। শনিবার হাওয়াইয়ের উপকূলের কাছে অবস্থান করে শক্তি বাড়িয়েছে ক্যাটাগরি-১ হারিকেন হিসেবে চিহ্নিত ঝড়টি। এর সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার।
১৯৯২ সালের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি শক্তিশালী হারিকেনের আঘাতের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্য। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে হাওয়াইয়ের বিগ আইল্যান্ডে প্রায় ৬৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি প্রায় ৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও রয়েছে।
বিগ আইল্যান্ডে হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে মাউই কাউন্টি, ওহু, কাউয়াই ও নিহাউ দ্বীপে জারি করা হয়েছে ট্রপিক্যাল স্টর্ম সতর্কতা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বন্যা ও ভূমিধসসহ ‘জীবন-হুমকিপূর্ণ’ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।
ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৫টার সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, লালার ‘আইওয়াল’ বিগ আইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, দ্বীপটিতে রাতভর শক্তিশালী বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে এবং রোববার তা পশ্চিমের ছোট দ্বীপগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে।
হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন বাসিন্দাদের বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সপ্তাহজুড়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিকর বাতাস, ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও সুনামি দেখা দিতে পারে।
হারিকেনের প্রভাবে হাওয়াইয়ে কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিগ আইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর এলিসন ওনিযুকা কোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৪০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। হিলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ ফ্লাইট।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত হাওয়াইয়ে প্রায় ৩৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিলেন। ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিগ আইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জন্য সবচেয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, ব্যাপক বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় মানুষকে সরিয়ে নিতে হতে পারে এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন হতে পারে। নদী ও শাখা নদীগুলোর পানি দ্রুত বেড়ে তীর উপচে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
পূর্ব বিগ আইল্যান্ডের হিলো এলাকার আবহাওয়াবিদ জেনিফার মায়ার্স জানান, ভূমিধসের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিলো বে-তে নদীর পলি ও পানি মিশে স্বাভাবিক নীল পানির রং বদলে গেছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে এর প্রভাবে গতকাল শনিবার থেকে হাওয়াইয়ে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটির ৪২ হাজারের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।
পাওয়ারআউটেজ ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় গতকাল বেলা দুইটার দিকে হাওয়াইয়ের ৪২ হাজার ৮৮৯ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না।
ঝড়ের আগেই বাসিন্দাদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। অনেকেই বাড়িঘর সুরক্ষায় বালুর বস্তা সংগ্রহ করেছেন। বিগ আইল্যান্ডের প্রতিটি কাউন্টিতে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এর আগে হাওয়াইয়ে সর্বশেষ বড় ধরনের হারিকেন আঘাত হেনেছিল ১৯৯২ সালে। ক্যাটাগরি-৪ হারিকেন ‘ইনিকি’ কাউয়াইয়ের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হেনে ছয়জনের প্রাণ কেড়ে নেয় এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করে।
তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, বিগ আইল্যান্ডে সর্বশেষ হারিকেন সরাসরি আঘাত হেনেছিল প্রায় ১৫৫ বছর আগে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় ছিল হারিকেন মৌসুম। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়বিতীয় উষ্ণতম জুলাই ছিল এবং প্রাক-শিল্প যুগের আনুমানিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।





















